দু’বছর বয়সেই মারা যায় বড় ছেলে, জেনেনিন নানার পরিবারে কে কে রয়েছেন?

বৃহস্পতিবার ভোরে ৭৫ বছর বয়সে গোয়ার মনিপাল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। পর্দায় তাঁর খলনায়ক বা শক্তিশালী চরিত্রগুলো যতটা দাপুটে ছিল, বাস্তব জীবনে তাঁর পারিবারিক জীবন ছিল ঠিক ততটাই সাধারণ এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে।

শৈশব ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড: মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মুরুদ-জঞ্জিরায় একটি মারাঠি পরিবারে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকরের আসল নাম ছিল বিশ্বনাথ পাটেকর। বাবা দিনকর পাটেকর ছিলেন টেক্সটাইল পেইন্টার এবং মা সঞ্জনাবাই পাটেকর ছিলেন গৃহবধূ। শৈশবে চরম আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হলেও নিজের অদম্য জেদ ও প্রতিভায় তিনি বলিউডে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। পরেশ রাওয়ালের এক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, নানা পাটেকরই ছিলেন বলিউডের প্রথম ক্যারেক্টার আর্টিস্ট যিনি একসময়ে ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেতেন।

স্ত্রী নীলকণ্ঠী পাটেকর ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক: মারাঠি চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ, অভিনেত্রী ও প্রযোজক নীলকণ্ঠী পাটেকরের সঙ্গে নানার পরিচয় ও প্রেম হয়। পরবর্তীতে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। যদিও জীবনের একটা বড় সময় তাঁরা আলাদা বসবাস করতেন, তবুও তাঁদের আইনি সম্পর্ক অটুট ছিল এবং তাঁরা কখনোই জনসমক্ষে বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খোননি।

প্রথম সন্তানের আকস্মিক মৃত্যু ও ছোট ছেলে মলহার: নানা পাটেকরের ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি ছিল তাঁর প্রথম সন্তানকে হারানো। বিয়ের পর তাঁদের বড় ছেলে দুর্বাসা মাত্র দু’বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনা তাঁদের পরিবারে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে তাঁদের ছোট ছেলে মলহার পাটেকরের জন্ম হয়। মলহার সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি অভিনয়েও যুক্ত রয়েছেন। বাবার মতোই মলহার প্রচারের আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না।

সিনেমার দুনিয়ায় দাপিয়ে বেড়ালেও ব্যক্তিগত জীবনে নানা পাটেকর ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ। কৃষিকাজ, সমাজসেবা এবং নাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কৃষকদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা এই অভিনেতার অন্দরমহল সবসময়ই ছিল গ্ল্যামারের চাকচিক্য থেকে বহু দূরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *