ত্বকে বয়সের ছাপ আর পায়ে অসহ্য টান? শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হচ্ছে না তো!

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসটাই স্বাভাবিক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকের মধ্যেই খুব কম বয়সে ত্বকে বলিরেখা পড়া কিংবা পেশিতে প্রায়শই টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এর নেপথ্যে মূল কারণ হতে পারে শরীরে জরুরি পুষ্টি উপাদানের অভাব। বিশেষ করে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতি হলে ত্বক ও পেশির স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চাঙ্গা রাখা থেকে শুরু করে ত্বক ও চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভিটামিন ‘ই’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনেক সময় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে এই ভিটামিনের মাত্রা কমতে শুরু করে। শরীর সময়মতো সেই সংকেতও দেয়, যা অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান।
ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতির ৭টি প্রধান লক্ষণ:
১. ত্বকে অকালেই বলিরেখা: ভিটামিন ‘ই’ ত্বকের কোলাজেন ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর অভাব ঘটলে ত্বক তার আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে এবং খুব দ্রুত বলিরেখা ও বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে।
২. পেশিতে অনবরত টান বা ক্র্যাম্প: শরীরে এই ভিটামিন কমে গেলে স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যার ফলে প্রায়ই পেশিতে তীব্র টান বা ব্যথা অনুভূত হয়।
৩. মাংসপেশির দুর্বলতা: শরীর ক্লান্ত না থাকা সত্ত্বেও যদি পেশিতে অস্বাভাবিক দুর্বলতা ও ভারী ভাব বোধ হয়, তবে তা ভিটামিন ‘ই’-র ঘাটতির অন্যতম লক্ষণ হতে পারে।
৪. দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া: চোখের রেটিনা ও পেশি সুস্থ রাখতে এই ভিটামিনের জুড়ি মেলা ভার। এর অভাবে চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসার আশঙ্কা থাকে।
৫. অতিরিক্ত চুল ঝরা: চুল পড়া বেড়ে যাওয়া এবং চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যাওয়ার পেছনেও পুষ্টির এই ঘাটতি অন্যতম কারণ হতে পারে।
৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: সামান্যতেই সর্দি-কাশি বা বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া মানে আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা ভিটামিন ‘ই’-র অভাবেই ঘটে থাকে।
৭. স্নায়ুর সমস্যা ও অসাড়তা: হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা বা অসাড় লাগার মতো সমস্যাও এই বিশেষ ভিটামিনের ঘাটতির ফল হতে পারে।
ভিটামিনের অভাব পূরণের সহজ উপায়:
শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র চাহিদা মেটাতে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিনের ডায়েটে কাঠবাদাম, সূর্যমুখী বীজ, পালং শাক, ব্রকোলি, অ্যাভোকাডো এবং জলপাই তেল বা বাদাম তেল রাখতে পারেন। তবে সমস্যা যদি মারাত্মক আকার ধারণ করে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।