মুখের দুর্গন্ধ কোনোভাবেই কমছে না? আসল রহস্য লুকিয়ে পেটের অন্দরেই! মুক্তির ৮টি উপায় জানেন কি?

কারও সামনে কথা বলতে গিয়ে কি প্রায়ই লজ্জায় পড়তে হয়? যতই ভালো করে ব্রাশ বা মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন না কেন, মুখের দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস (Halitosis)-এর সমস্যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না? অনেকেই মনে করেন, মুখে দুর্গন্ধ মানেই বুঝি কেবল দাঁতের ক্যাভিটি বা মুখের ভেতরে জমে থাকা ময়লা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, মুখের এইPersistent দুর্গন্ধের আসল এবং গভীর কারণ অনেক সময়ই লুকিয়ে থাকে আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা পেটের অন্দরে।
হজম সংক্রান্ত গোলমাল, গ্যাস্ট্রিক বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাগুলো যখন চরমে পৌঁছায়, তখন তার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করে আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসে। পেটের খাবার ঠিকমতো হজম না হলে সেখান থেকে যে গ্যাসের সৃষ্টি হয়, তা অনেক সময় মুখের দুর্গন্ধের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ৮টি কার্যকর উপায়:
১. পর্যাপ্ত জল পান করা: শরীর ভেতর থেকে হাইড্রেট না থাকলে লালার উৎপাদন কমে যায়, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সারাদিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল খেলে মুখ আর্দ্র থাকে এবং দুর্গন্ধ দূর হয়। ২. পেটের স্বাস্থ্য বা হজমশক্তি উন্নত করা: পেটের গোলমাল ও বদহজম থেকে মুক্তি পেতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল বেশি করে খান। ৩. নিয়মিত জিভ পরিষ্কার করা: শুধু দাঁত মাজলেই কাজ শেষ হয় না, প্রতিদিন টুথব্রাশ বা টাং ক্লিনার দিয়ে জিভের ওপর জমে থাকা ব্যাকটেরিয়ার আস্তরণ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। ৪. মৌরি বা লবঙ্গ চিবোনো: খাওয়ার পর সামান্য মৌরি, লবঙ্গ বা এলাচ চিবোনোর অভ্যাস করুন। এগুলি প্রাকৃতিক মাউথফ্রেশার হিসেবে কাজ করে এবং মুখের দুর্গন্ধ নিমেষে দূর করে। ৫. গ্রিন টি পান করা: গ্রিন টি-তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ভেতর দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াগুলিকে ধ্বংস করতে দারুণভাবে সাহায্য করে। ৬. টক জাতীয় ফল ও ভিটামিন সি: পাতিলেবু, কমলালেবু বা আমলকির মতো ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার মুখের ভেতর লালার অম্লত্ব বজায় রাখে এবং ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয়। ৭. ধূমপান ও তামাক বর্জন: ধূমপান বা গুটখার নেশা মুখের লালা শুকিয়ে দেয় এবং তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। এই অভ্যাসগুলি ত্যাগ করলেই দুর্গন্ধের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। ৮. ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া: ঘরোয়া উপায়ে যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তবে বুঝতে হবে মাড়ির রোগ বা ডেন্টাল ক্যারিজের সমস্যা রয়েছে। সেক্ষেত্রে অবিলম্বে একজন দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।