অর্ধেক খেতেই অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করছেন? বড় বিপদ ডেকে আনছেন, যা জানলে আজই চমকে উঠবেন!

সামান্য সর্দি-কাশি, জ্বর বা যেকোনো সংক্রমণ দেখা দিলেই ডাক্তারের কাছে ছোটার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। এমনকি অনেক সময় প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার প্রবণতাও বেশ দেখা যায়। আর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করার পর একটু সুস্থ বোধ করলেই কোর্স শেষ না করে মাঝপথেই তা বন্ধ করে দেওয়া এক অত্যন্ত সাধারণ বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট অবহেলাটিই ভবিষ্যতে আপনার এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মারাত্মক ও ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা এএমআর (AMR) বর্তমান চিকিৎসা জগতের অন্যতম এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সঠিক নিয়ম না মেনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুগুলি ধীরে ধীরে ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, যা আগামী দিনে চিকিৎসকদের হাত থেকেও নিরাময়ের সমস্ত উপায় কেড়ে নিতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স মাঝপথে থামানোর বিপদগুলি কী কী?

১. সুপারবাগ বা শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়ার জন্ম: চিকিৎসকের নির্দিষ্ট দিন অনুযায়ী কোর্স সম্পূর্ণ না করলে শরীরের সমস্ত ক্ষতিকর জীবাণু মারা যায় না। বেঁচে থাকা শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়াগুলি আরও বেশি শক্তি সঞ্চয় করে নিজেদের রূপ বদলে ফেলে, যাকে চিকিৎসার ভাষায় ‘সুপারবাগ’ বলা হয়। এই সুপারবাগগুলির ওপর সাধারণ কোনো অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করতে চায় না। ২. রোগের পুনরাবৃত্তি ও তীব্রতা বৃদ্ধি: মাঝপথে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিলে কিছুদিন পর সেই রোগ দ্বিগুণ শক্তিতে ফিরে আসতে পারে। ফলে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রার এবং শক্তিশালী ওষুধের প্রয়োজন হয়। ৩. ওষুধের কার্যকারিতা চিরতরে হারিয়ে যাওয়া: শরীরে বারবার অপ্রয়োজনীয় বা অসম্পূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করলে একসময় সেই নির্দিষ্ট গ্রুপের ওষুধগুলির প্রতি শরীরের রোগজীবাণুরা সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। এর ফলে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংক্রমণ হলে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই আর শরীরে কাজ করবে না। ৪. চিকিৎসা ব্যয় ও জটিলতা বৃদ্ধি: রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে গেলে সাধারণ চিকিৎসায় রোগ সারানো সম্ভব হয় না। ফলস্বরূপ, রোগীকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় এবং চিকিৎসার খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সতর্কতা:

চিকিৎসকদের কঠোর নির্দেশ, কোনো অবস্থাতেই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করা উচিত নয়। একমাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডোজ এবং নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করতেই হবে। এমনকি মাঝপথে উপসর্গ কমে গেলেও ডাক্তার না বলা পর্যন্ত ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। সচেতন হন, তবেই এই নীরব মহামারী বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ভয়াবহ গ্রাস থেকে নিজেকে ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *