উৎপাদন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে টাটা! চাহিদা মেটাতে এবার বড় বিনিয়োগের পথে গাড়ি নির্মাতা সংস্থা

দেশে টাটা গাড়ির চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা দিয়ে কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের গাড়ির চাহিদা মেটাতে এবার বড়সড় পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে টাটা মোটরস। আগামী অর্থবর্ষ অর্থাৎ ২০২৮ সাল থেকে প্রতি মাসে এক লক্ষ যাত্রীবাহী গাড়ি তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সংস্থাটি।
গত তিন মাস ধরে টাটা মোটরস প্রতি মাসে প্রায় ৭৫,০০০ গাড়ি তৈরি করছে। তবে যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কম থাকায় টাটা তাদের পুরো উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। বর্তমানে বাজারের চাহিদা সংস্থার মোট বিক্রির তুলনায় প্রায় ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ ইউনিট বেশি রয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে সংস্থাটি প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬৫,০০০ গাড়ি বিক্রি করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতি মাসে এক লক্ষ ইউনিট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান বিক্রির তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি। সম্প্রতি পুনেতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সম্মেলনে সরবরাহকারীদের সামনে এই সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্ত করতে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাটা। আগামী ২০২৭ থেকে ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে যাত্রীবাহী গাড়ি ব্যবসায় প্রায় ৩৭,৫০০ থেকে ৪০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে তারা। সংস্থার মূল লক্ষ্য হলো, ৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতের মোট যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারের কুড়ি শতাংশ দখল করা এবং বছরে ১২ লক্ষেরও বেশি গাড়ি বিক্রি করা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ওই সময়ের মধ্যে টাটা মোটরসের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা তেরো লক্ষ ইউনিটে পৌঁছাতে পারে।
শুধু উৎপাদন বাড়ানোই নয়, গাড়ির বহর বা পোর্টফোলিওতেও বড় চমক আনতে চলেছে টাটা। ২০২৭ সালে বাজারে আসছে নতুন প্রজন্মের নেক্সন। পাশাপাশি, চলতি বছরের শেষের দিকে বাজারে আসতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত আভিনিয়া সিরিজের গাড়িগুলোও। ৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে নিজেদের বহরে নতুন ছয়টি মডেল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে টাটার, যার ফলে তাদের মোট মডেলের সংখ্যা গিয়ে পৌঁছাবে পনেরোটিতে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে চলেছে। টাটা মোটরসের অনুমান, দেশের যাত্রীবাহী গাড়ির বাজার ২৬ অর্থবর্ষের সাতচল্লিশ লক্ষ ইউনিট থেকে বেড়ে ৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে চৌষট্টি লক্ষ ইউনিটে পৌঁছাবে। এই বিশাল বাজারের চাহিদা পূরণ করতেই টাটা এখন থেকেই তাদের উৎপাদন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করে তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছে।