মোদিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন সপা প্রার্থী! অখিলেশের দলের অন্দরে এ কোন বড় রাজনৈতিক সমীকরণ?

আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) শিল্পপতি ধনরাজ নাথওয়ানিকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। তাঁর এই নির্বাচন প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে চলেছে বলে নিশ্চিত মনে হলেও, ঠিক এমন এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ধনরাজ। একদিকে যখন এসপি শিবির এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে, অন্যদিকে বিজেপি দাবি করেছে যে মোদীজি সকলের হৃদয়েই রয়েছেন। পাশাপাশি, এই ঘটনায় সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলেছে মায়াবতীর দল বিএসপি। ফলস্বরূপ রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— ধনরাজ নাথওয়ানি আসলে কার পক্ষে?
কার এই ধনরাজ নাথওয়ানি?
কর্পোরেট জগত থেকে উঠে আসা ধনরাজ নাথওয়ানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ এবং গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (যে পদে একসময় দায়িত্ব পালন করেছিলেন খোদ নরেন্দ্র মোদীও)। সপা প্রধান অখিলেশ যাদব যখন তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন তিনি সাফ জানিয়েছিলেন যে অনেক রাজনৈতিক দলেরই কর্পোরেট জগতে সুনির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং দল উচ্চকক্ষে এমন কাউকে পাঠাতে চায় যার শক্তিশালী ব্যবসায়িক সংযোগ রয়েছে।
তবে এই মনোনয়নের নেপথ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত পারিবারিক রাজনৈতিক সমীকরণ। ধনরাজের বাবা পরিমল নাথওয়ানি একজন এনডিএ-সমর্থিত স্বতন্ত্র রাজ্যসভা সাংসদ, যিনি সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুনে ঝাড়খণ্ড থেকে টানা চতুর্থবারের মতো উচ্চকক্ষে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁকেও রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গেই যুক্ত দেখা যায়। অর্থাৎ একই পরিবারের অন্দরে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট— বাবা এনডিএ-র ছায়ায়, আর ছেলে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে রাজ্যসভার পথে!
মোদীর ২৫ বছর পূর্তিতে প্রশংসার বন্যা:
গত ৭ই অক্টোবর, জনজীবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোশাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ পোস্ট করেন ধনরাজ নাথওয়ানি। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার এই সুদীর্ঘ যাত্রাপথ এবং দেশ গঠনে মোদীর অটল নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। ঠিক যে মুহূর্তে সপা তাঁকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে, সেই একই সময়ে মোদীর প্রশংসায় তাঁর এই পোস্ট রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জনের সৃষ্টি করে।
এই বিষয়ে বিজেপি মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠি কটাক্ষ করে বলেছেন যে, ধনরাজ নাথওয়ানি একদম মন থেকে কথা বলেছেন, মস্তিষ্ক থেকে নয়। কারণ তিনি রাজনীতিতে নতুন, তাই হৃদয় দিয়ে ভেবেছেন। এমনকি তিনি এও দাবি করেন যে অখিলেশ যাদবও মনে মনে মোদীর প্রশংসা করেন, কেবল রাজনৈতিক বাধার কারণেই তা প্রকাশ করতে পারেন না।
মায়াবতীর আক্রমণ ও সপার নীরবতা:
শিল্পপতি ধনরাজকে প্রার্থী করার পরই বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী সরাসরি অখিলেশ যাদবকে নিশানা করেছেন। ধনরাজের কর্পোরেট সংযোগ এবং মোদীর প্রতি তাঁর এই সদ্ভাবকে হাতিয়ার করে সপার তথাকথিত ‘পিডিএ’ (PDA) রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন মায়াবতী। বিরোধীরা যখন একের পর এক তোপ দেগে চলেছে, তখন এই পুরো বিষয়টি নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে সমাজবাদী পার্টি। কোনো কেন্দ্রীয় নেতা বা মুখপাত্র এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। কর্পোরেট ব্যাকগ্রাউন্ড, বাবা বনাম ছেলের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় এবং মোদী বন্দনার এই ত্রিমুখী জালে জড়িয়ে থাকা ধনরাজ নাথওয়ানির রাজ্যসভা প্রবেশ আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।