উৎসবের মরশুমে রেশন কার্ডধারীদের জন্য বিরাট উপহার! বিশেষ ‘পুজো প্যাকেজ’ পাওয়ার তারিখ জানিয়ে দিল খাদ্য দপ্তর

উৎসবের আবহ রাজ্যে। আর ঠিক পুজোর মুখেই রেশন গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুখবর নিয়ে এলো রাজ্য খাদ্য দপ্তর। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে রেশনে পাওয়া যাবে বিশেষ ‘পুজো প্যাকেজ’। উৎসবের দিনে সাধারণ মানুষ যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যসামগ্রী পান, সেই উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে রেশন ডিলারদের সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিজয়া দশমী পেরিয়ে যাওয়ার পর এই বিশেষ পুজো প্যাকেজ বিতরণ পুরোদমে গতি পাবে।
কালিপুজো ও ছট পুজোতেও পাওয়া যাবে সুবিধা
অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, ১৫ অক্টোবরের আগেই অনেক রেশন গ্রাহক তাঁদের নির্ধারিত মাসিক চাল ও গম তুলে নেবেন। তবে এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
যাঁরা পুজোর আগে এই প্যাকেজ সংগ্রহ করতে পারবেন না, তাঁরা নভেম্বর মাসেও মাসিক সাধারণ বরাদ্দের সাথে এই পুজো প্যাকেজের বিশেষ খাদ্য সামগ্রী তুলে নিতে পারবেন। ফলে দুর্গোৎসবের পাশাপাশি কালীপুজো, দেওয়ালি এবং ছট পুজোতেও এই বিশেষ সহায়তার সুবিধা পাবেন সাধারণ গ্রাহকেরা।
পুজো প্যাকেজে কী কী মিলছে? দাম কত?
খাদ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উৎসবের মরশুমে প্রতি কেজি চিনি ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি ময়দা ১৯ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে প্যাকেজে সুজি দেওয়ার কথা থাকলেও তা সরবরাহ করা নিয়ে আপাতত কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা দিতে রেশন ডিলারদের সংগঠন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ‘নাফেড’ (NAFED)-এর সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে উৎসবের দিনগুলিতে রেশনের দোকান থেকেই সাশ্রয়ী ও কম দামে ডাল এবং ভোজ্য তেল কেনার সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ।
ডিলারদের বকেয়া প্রশ্ন ও খাদ্য দপ্তরের পরিকল্পনা
পুজো প্যাকেজ চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও খাদ্য দপ্তরের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্টতা চেয়েছে ডিলার সংগঠন। যেমন—অন্য রাজ্য থেকে আসা কোনো রেশন কার্ডধারী যদি এ রাজ্যের দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী তোলেন, তবে তিনি এই পুজো প্যাকেজের আওতায় আসবেন কি না? অথবা কোনো নির্দিষ্ট রেশন দোকানে নির্ধারিত প্যাকেজ বেঁচে গেলে তার ভবিষ্যৎ কী হবে?
পাশাপাশি ডিলারদের দাবি, ডিস্ট্রিবিউটরদের আগাম টাকা মেটানোর পরিবর্তে রেশন ডিলারদের যেন পোস্ট ডেটেড চেক (Post-dated Cheque) দিয়ে প্যাকেজের মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়।
খাদ্য দপ্তর এবং ডিলারদের এই যৌথ পদক্ষেপে আসন্ন পুজো ও উৎসবের মরশুমে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের হেঁশেলে যে বড়সড় স্বস্তি মিলবে, তা বলাই বাহুল্য।