“এত বড় আর্থিক বোঝা চাপবে ভাবিনি!” মুখ ফসকে সত্যি ফাঁস হতেই প্রবল চাপে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী

মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আদলে ভারতের একাধিক রাজ্য চালু করেছে বিশেষ ভাতা প্রকল্প। তবে তা চালাতে গিয়ে এখন রীতিমতো নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশে! রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন, এই ‘লাডলী বহনা যোজনা’ (Ladli Behna Yojana) চালাতে গিয়ে সরকারি কোষাগারের ওপর কী বিপুল আর্থিক বোঝা চেপেছে, তা তিনি আগে চিন্তাও করতে পারেননি।

ভোপালের রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত এক সামাজিক অনুষ্ঠানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বিন্নু রানির সঙ্গে কথা বলার সময় আচমকা এই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাঁর এই বয়ান প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে।

“মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যে এত বড় আর্থিক বোঝা, আগে বুঝিনি!”
অনুষ্ঠানে নারীদের কল্যাণে সরকারের ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খোলাখুলি উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, “লাডলী বহনা যোজনা কতটা ব্যয়বহুল প্রকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়ে আপনাদের কোনো ধারণাই নেই! মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা যে আমার জন্য এত বড় অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে উঠবে, তা পদে বসার আগে বুঝতে পারিনি। ১০০০ টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই সমস্যা শুরু। বর্তমানে আমরা ১৫০০ টাকা করে দিচ্ছি।”

যদিও পরিস্থিতির তীব্রতা ঢাকতে পরবর্তীতে তিনি জানান যে, হাজার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বোনেদের এই আর্থিক সহায়তা তিনি বন্ধ হতে দেবেন না।

বছরে প্রায় ২২,৬৮০ কোটি টাকার খরচ! বাদ পড়লেন ৬ লক্ষের বেশি মহিলা
২০২৩ সালের শুরুর দিকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। প্রথমে ১০০০ টাকা, তারপর ১২৫০ টাকা এবং বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের ১ কোটি ২৫ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এই ভাতা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করারও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

তবে এই বিশাল ভাতা মেটাতে গিয়ে রাজ্য সরকারের কোষাগারে টান পড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলেই সেই সংকটের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

বিপুল বাজেট: বর্তমান হারে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে কেবল এই একটি প্রকল্পের পিছনেই বছরে প্রায় ২২,৬৮০ কোটি টাকা বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

তালিকা থেকে ছাঁটাই: ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ২৫ হাজার মহিলাকে এই প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

হ্রাস পাওয়া উপভোক্তা: ২০২৩ সালের অক্টোবরে যেখানে গ্রহীতার সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩১ লক্ষ, ২০২৬ সালের শুরুতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৫ লক্ষে।

বন্ধ নতুন রেজিস্ট্রেশন: ৬০ বছর বয়স পার হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে উপভোক্তাদের। পাশাপাশি নতুন করে কোনো যোগ্য মহিলা যাতে নাম নথিভুক্ত করতে না পারেন, তার জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিধানসভায় সুর চড়াচ্ছে বিরোধী কংগ্রেস
সরকারের এই ছাঁটাই নীতি এবং নতুন রেজিস্ট্রেশন বন্ধ রাখা নিয়ে ইতিপূর্বে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় সুর চড়িয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। কংগ্রেস বিধায়ক মহেশ পারমার প্রশ্ন তুলেছেন, নতুন কোনো যোগ্য মহিলা কেন এই প্রকল্পের আওতায় আসার সুযোগ পাবেন না?

যদিও সরকারের তরফে এখনও স্পষ্ট করে বলা হয়নি যে কবে থেকে বন্ধ থাকা এই আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চমক হিসেবে চালু হওয়া ‘লাডলী বহনা যোজনা’ এখন বিজেপি সরকারের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *