৬৫ বছর পর মার্কিন সেনায় প্রথম! ভয়ঙ্কর শ্যুটআউটে ১৩ জনকে খুনে প্রাক্তন সেনাকে ‘ফায়ারিং স্কোয়াড’-এ মৃত্যুর তোপ ট্রাম্পের

আমেরিকাকে কাঁপিয়ে দেওয়া ২০০৯ সালের বিভীষিকাময় শ্যুটআউটের ঘটনায় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। প্রাক্তন মার্কিন আর্মি মেজর নিদাল মালিক হাসানকে ‘ফায়ারিং স্কোয়াড’ (Firing Squad)-এর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ ও অনুমতি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে দীর্ঘ ৬৫ বছর পর কোনো সেনা অফিসারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে চলেছে।

টেক্সাসের সেই অভিশপ্ত ২০০৯: ১৩ জনকে গুলি করে হত্যা
২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে চালানো এক ভয়াবহ গণহত্যায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন তৎকালীন সেনার সাইকিয়াট্রিস্ট নিদাল মালিক হাসান। নিজের সহকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন তিনি। সেই হামলায় গুরুতর জখম হন আরও প্রায় ৩০ জন।

ঘটনার পর সামরিক বাহিনীর আদালত অর্থাৎ ‘কোর্ট মার্শাল’-এর মাধ্যমে তাঁর বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচারে নিদাল নিজের অপরাধ বিন্দুমাত্র অস্বীকার করেননি; বরং নিজেকে ‘দলবদল করা যোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করে জানান, আফগানিস্তানে মুসলিমদের ওপর মার্কিন সেনার হামলা ঠেকাতেই তিনি এই রক্তক্ষয়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

মার্কিন সেনায় ফায়ারিং স্কোয়াডের বিরল মৃত্যুদণ্ড
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, নিদাল মালিকের সাজা কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় এখন নির্ধারণ করবেন মার্কিন ‘আর্মি সেক্রেটারি’।

প্রসঙ্গত, মার্কিন সেনাবাহিনীতে ১৯৬১ সালের পর আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। ওই বছর ১১ বছরের এক বালিকাকে ধর্ষণের অপরাধে আর্মি প্রাইভেট জন এ. বেনেটকে শেষবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ অপর এক সাজাপ্রাপ্ত সেনা রোনাল্ড গ্রের মৃত্যুদণ্ডে সই করলেও আদালতের স্থগিতাদেশে তা আটকে যায়। বর্তমানে নিদাল মালিক এবং রোনাল্ড গ্রে দুজনেই কানসাসের হাই-সিকিউরিটি সামরিক কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিদালের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশে সই করলেও, নিদালের সামনে এখনও সুপ্রিম কোর্ট বা ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে। যদি তিনি সেই আপিল দায়ের করেন, তবে সাজা পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও কিছুদিন বা কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *