মেগাসিটির প্রযুক্তি এবার শিলিগুড়িতে! ৪.৪১ কোটি টাকায় বদলে যাচ্ছে শহরের সাফাই চিত্র, বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

শিলিগুড়ি শহরকে আরও তিলোত্তমা, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাফাই অভিযানকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে বহরে যুক্ত হলো ১২টি নতুন অত্যাধুনিক গাড়ি। বুধবার ঐতিহ্যবাহী বাঘাযতীন পার্কে আয়োজিত ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ কর্মসূচির বিশেষ মঞ্চ থেকে এই নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যানগুলির আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়।
৪.৪১ কোটি টাকার বাজেট ও আধুনিক জিপিএস প্রযুক্তি
রাজ্য সরকারের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের বিশেষ অর্থ বরাদ্দে প্রায় ৪ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই ১২টি পরিচ্ছন্নতা গাড়ি শিলিগুড়ি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। তবে এই গাড়িগুলির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ও বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম’ (GPS Tracking System)।
দেশের বড় বড় মেগাসিটিগুলির মতো এবার শিলিগুড়িতেও এই জিপিএস প্রযুক্তি চালুর ফলে—
গাড়িগুলি এখন শহরের কোথায় অবস্থান করছে তা সরাসরি মনিটর করা যাবে।
নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী কাজ শেষ হচ্ছে কিনা তা কড়া নজরদারিতে রাখা সম্ভব হবে।
পুরকর্মীদের নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করা যাবে।
উদ্বোধনের পরপরই গাড়িগুলিকে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাফাই কাজের জন্য রওনা করিয়ে দেওয়া হয়।
“নাগরিক দায়িত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণই আসল”: পর্যটনমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল পৌর প্রশাসনের একার দায়িত্ব হতে পারে না, এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র বহরে নতুন গাড়ি যুক্ত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, সেগুলির সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দিকে কড়া নজর রাখতে হবে, যাতে শহরের প্রতিটি কোণে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছায়।”
অতীতের খামতি ও উন্নয়নের চার মূল স্তম্ভ
শহরের পরিকাঠামোগত সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শঙ্কর ঘোষ উল্লেখ করেন যে, একটি আধুনিক শহরের ভিত্তিমূল নির্ভর করে চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর—রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল এবং সুসংহত জলনিকাশি ব্যবস্থা।
বিগত দিনের ত্রুটি স্বীকার করে তিনি সোচ্চার কণ্ঠে বলেন, “অতীতে নানা কারণে, বিশেষ করে সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে রাজনীতির অনভিপ্রেত মিশ্রণের দরুণ শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষ দীর্ঘকাল কাঙ্ক্ষিত নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে শিলিগুড়ির সাফাই ব্যবস্থাপনায় এক নতুন এবং গতিশীল অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে আশা প্রকাশ করছেন সাধারণ শহরবাসী।