“ব্যারিকেডে উঠে নাটক করলেও ভোট মিলবে না!” দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর তাণ্ডব নিয়ে সিবিএফসি প্রধানের বিদ্রুপ

নতুন দিল্লিতে বিরোধী সাংসদদের হাই-ভোল্টেজ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মারমুখী আচরণ ও দৃশ্যচিত্র ঘিরে এবার জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল তৈরি হয়েছে। মিছিল আটকে দেওয়ার পর ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়া কিংবা নিরাপত্তা এড়িয়ে আকাশবাণী ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ার মতো ঘটনা নিয়ে নাম না করে রাহুল গান্ধীকে চরম কটাক্ষ করলেন সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-র চেয়ারপার্সন তথা প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও শশীশেখর ভেমপতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, গণমাধ্যমের নজর কাড়তে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাময়িক আলোচনা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড তৈরি করা গেলেও, তা দিনশেষে নির্বাচনের ফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিক কী লিখলেন শশীশেখর ভেমপতি?
গতকাল সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে ইন্ডি (INDIA) জোটের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রসহ একাধিক নেতা পুলিশি বাধার মুখে আটকে পড়লেও রাহুল গান্ধী লাউডস্পিকার হাতে ব্যারিকেডের ওপর চড়ে বসেন এবং পরবর্তীতে আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন।
এই ঘটনার পর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শশীশেখর ভেমপতি লেখেন, “দৃশ্যনির্ভর বা ক্যামেরাসর্বস্ব রাজনীতির দিন অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ক্যামেরার সামনে সস্তা প্রচার পাওয়ার জন্য যেসব সাজানো প্রতিবাদের আশ্রয় নেওয়া হয়, তার একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। ক্যামেরার নজর যখন অন্য কোনো আকর্ষণীয় ঘটনার দিকে ঘুরে যায়, তখন সেই তথাকথিত প্রতিবাদের গুরুত্বও নিমেষে ফুরিয়ে যায়।”
“বংশানুক্রমিক রাজনীতির হাহাকার!” তীব্র বিদ্রুপ সিবিএফসি প্রধানের:
পারিবারিক রাজনীতি ও পরপর নির্বাচনে পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও সুর চড়ান। লেখেন, “বয়স গড়াচ্ছে, অথচ একের পর এক রাজ্যে নির্বাচনে প্রাসঙ্গিকতা হারানোর ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তাই বংশানুক্রমিক রাজনীতির উত্তরাধিকারীর এই হতাশা ও মরিয়া মনোভাব একেবারেই বোধগম্য। যেখানে আদতে কোনো সংকটই নেই, সেখানে কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করলে হয়তো সংবাদমাধ্যমের সান্ধ্যকালীন আলোচনায় জায়গা পাওয়া যায় কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করানো যায়—কিন্তু তাতে বাস্তব নির্বাচনের ফলাফল বদলে যাবে বা ভোটের লড়াইয়ে সাফল্য আসবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।”
দিল্লির বুকে রাহুলের এই আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক রূপ এবং তার পাল্টা প্রশাসনিক কর্তাদের এই প্রতিক্রিয়া ভারতের রাজনৈতিক পারদকে নতুন করে চড়িয়ে দিয়েছে।