করোনার পর এবার ‘নিউমোনিক প্লেগ’? ল্যাবকর্মীর রহস্যমৃত্যুতে রাশিয়ার কাছে জরুরি তলব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার!

রাশিয়ার ইরকুটস্ক অঞ্চলের এক গবেষণাগার কর্মীর আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুরুতর ‘নিউমোনিয়া’য় আক্রান্ত হয়ে ওই ল্যাবকর্মীর মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। বাতাসবাহিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ ‘নিউমোনিক প্লেগ’ (Pneumonic Plague)-এর সম্ভাব্য উপস্থিতি ঘিরে নানা সংঘাতপূর্ণ খবর ছড়াতেই আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা অনুযায়ী কড়া অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসাস (Tedros Adhanom Ghebreyesus) বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, রাশিয়ার ‘ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এ ঠিক কী ঘটেছিল এবং ওই কর্মী কীভাবে সংক্রামিত হলেন, সে বিষয়ে সঠিক ও প্রযুক্তিগত তথ্য সরবরাহ করতে হবে রাশিয়াকে।
সামাজিক মাধ্যমে WHO প্রধানের বিস্ফোরক পোস্ট:
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) ডাব্লিউএইচও প্রধান জানান, “সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর থেকেই আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। গত ২ অক্টোবর, ২০২৪-এ গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ল্যাবকর্মীর মৃত্যু হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষণাগারে অসাবধানতাবশত কোনো মারাত্মক প্যাথোজেনের সংস্পর্শে আসার ফলেই তিনি নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।”
রাশিয়ার দাবি ও তদন্তের বর্তমান চিত্র:
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু করে রাশিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা। রাশিয়ান কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত কর্মীর বায়োলজিক্যাল নমুনা পরীক্ষা করে কাজের সূত্রে সংক্রামিত হতে পারে এমন কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু মেলেনি। পাশাপাশি সতর্কতা হিসেবে মৃতার সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তিকে অবিলম্বে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। মস্কোর দাবি, সংস্পর্শে আসা কারও শরীরেই সংক্রমণের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি এবং তাঁদের পর্যবেক্ষণ পর্ব ইতিমধ্যেই নিরাপদে শেষ হয়েছে। রাশিয়া পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ বলে দাবি করেছে।
তবে রাশিয়া অল-ক্লিয়ার দিলেও আশ্বস্ত হতে পারছে না WHO। নিউমোনিয়ার মূল কারণ উদঘাটন করা এবং একই সাথে অপর এক ল্যাবকর্মীর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুতিন সরকারের কাছে অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত রিপোর্ট দাবি করেছে সংস্থাটি।
কতটা বিপজ্জনক এই ‘নিউমোনিক প্লেগ’?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত প্লেগের সবচেয়ে সংক্রামক ও অত্যন্ত মারাত্মক রূপ। কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে এটি বাতাসের সাহায্যে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। সময়মতো সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা না গেলে এটি নিশ্চিতভাবেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।