“লঙ্কা-কাঁচা ডিমের শেক খাওয়া ছেলেই পছন্দ!” রাজবীরকে জামাই করতে কেন একপায়ে রাজি নন্দিনীর বাবা?

বিগ বস বাংলার অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে রাজবীর এবং নন্দিনীর প্রেমের গুঞ্জন। ক্যামেরার সামনে হোক বা আড়ালে—এই জুটির কেমিস্ট্রি এখন দর্শকদের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। বন্ধুত্বের গণ্ডি পার করে তাঁদের সম্পর্ক যে পুরোদস্তুর প্রেমে রূপ নিয়েছে, তা নিয়ে আর কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু স্ক্রিনের এই রোম্যান্স কি মেনে নিয়েছে পরিবার? সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেয়ের প্রেমিককে প্রকাশ্যে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দিলেন খোদ নন্দিনীর বাবা সন্দীপ দত্ত!
কেন হবু জামাই হিসেবে রাজবীরকে এত পছন্দ?
রাজবীরের জেতার অদম্য তাগিদ ও জীবনসংগ্রাম দেখে রীতিমতো মুগ্ধ সন্দীপবাবু। রাজবীরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তিনি জানান, বিগ বসের একটি কঠিন টাস্কে রাজবীর যেভাবে অবলীলায় লঙ্কা, কাঁচা ডিম আর দুধের শেক গিলে ফেলেছিল, তাতেই তাঁর মনের জোর স্পষ্ট।
এই জীবনসংগ্রামের সঙ্গেই নিজের অতীতের মিল খুঁজে পান নন্দিনীর বাবা। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমি নিজে জিরো থেকে এই জায়গায় এসেছি। নন্দিনীর জন্মের সময় হাসপাতালের মাত্র ৩,৬৫০ টাকার ওষুধের বিল মেটাতে আমার ৩ দিন সময় লেগেছিল। তাই যে মানুষ মাটি কামড়ে পরিশ্রম করে বড় হতে চায়, তাঁকে আমি মন থেকে সম্মান করি।”
কঠিন সময়ে রাজবীরের ‘অক্সিজেন’ নন্দিনী:
বিগ বসের ঘরে এই জুটি ঠিক কীভাবে একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে, সেটাও ফাঁস করেছেন তিনি। সন্দীপবাবুর মতে, ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে জিতু ঘরে ঢোকার পর রাজবীরের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই দমে গিয়েছিল। গোটা বাড়ি যখন রাজবীরের বিরুদ্ধে, তখন নন্দিনী একাই সবার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং ওকে ‘অক্সিজেন’ জুগিয়েছিল।
রাজবীরকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং সুপারস্টার’ তকমা দিয়ে সন্দীপবাবু বলেন, “১০০ জন ভোট দিলে ৫০টিই রাজবীর পাচ্ছে। এত লোক যখন পছন্দ করছে, তখন ওর মধ্যে নিশ্চয়ই আলাদা কোনো জাদু আছে!”
“মেয়ে না জিতলেও আক্ষেপ নেই!”
সাক্ষাৎকারের শেষলগ্নে সন্দীপ দত্ত এমন এক মন্তব্য করেন যা দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। তিনি জানান, ট্রফি কে জিতল তা নিয়ে তাঁর আলাদা কোনো আক্ষেপ নেই। ফাইনালে যদি নন্দিনী ও রাজবীরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় এবং রাজবীর চ্যাম্পিয়ন হয়, তবে তিনি নিজের মেয়ে জেতার মতোই আনন্দ পাবেন।
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেয়ের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে মনে করেন নন্দিনীর বাবা। সোজা ব্যাটে খেলে তাঁর বক্তব্য, “রাজবীর খুব ভালো মনের মানুষ। আমি চাই এমন কেউ আসুক, যে নন্দিনীকে আগলে রাখবে ও কেয়ার করবে।”