“ভোরবেলা ডেকে বলতেন পরি আসবে!” মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের চণ্ডীপাঠ ও ছেলেবেলার ম্যাজিক নিয়ে স্মৃতিকাতর ত্বরিতা

পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে মর্ত্যে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। আর এই দুই পক্ষের মিলনতিথি অর্থাৎ মহালয়ার ভোর মানেই বাঙালির মনপ্রাণ জুড়ে এক অদ্ভুত মাদকতা। ভোরে রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মন্ত্রমুগ্ধ চণ্ডীপাঠ আর টেলিভিশনের পর্দায় মহিষাসুরমর্দিনী দর্শন—সব মিলিয়ে শারদোৎসবের ঢাং বেজে যাওয়া। এই পবিত্র দিনে অতীতের স্মৃতি আর ছেলেবেলার নস্টালজিয়ায় ভেসে গেলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়।
পরীক্ষার টেনশন বনাম মহালয়ার উন্মাদনা:
ছোটবেলার মহালয়ার স্মৃতি রোন্থন করতে গিয়ে ত্বরিতা বলেন, “আমাদের ছোটবেলায় মহালয়া মানেই বুঝে যেতাম পুজো একদম দোরগোড়ায় চলে এসেছে! মন জুড়ে কী যে আনন্দ আর উত্তেজনা কাজ করত! তবে তার মধ্যেই চতুর্থী পর্যন্ত পরীক্ষা চলত আমাদের। কিন্তু পরীক্ষার সেই কঠিন টেনশনও মহালয়ার ওই অসীম এক্সাইটমেন্টকে কখনও দমাতে পারত না। আমাদের বাড়িতে নিয়ম করে ভোরে রেডিও চালানো হতো, মা শুনতেন আর আমাদেরও ঘুম থেকে তুলে দেওয়া হতো।”
“ভোরে বলতেন পরি আসবে!” মাসির বাড়ির হাড়হিম স্মৃতি:
মাসির বাড়িতে মহালয়া পালনের একটি অনন্য অনুভূতির কথা শেয়ার করে অভিনেত্রী জানান, “মাসির বাড়িতে ভীষণ নিষ্ঠার সঙ্গে মহালয়া পালন করা হতো। মেসো ভোরবেলা আমাদের সকলকে ঘুম থেকে তুলতেন এক অদ্ভুত কথা বলে! বলতেন—‘তাড়াতাড়ি ওঠো, পরি আসবে!’ সেই মিষ্টি ছলে ঘুম ভাঙার পর আমরা সবাই মিলে রেডিওতে মহিষাসুরমর্দিনী শুনতাম। অনুষ্ঠান শেষ হলে সেই কনকনে ভোরের আলোয় মর্নিং ওয়াকে বেরোনো… উফ, অসাধারণ সেই সব স্মৃতি! বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই অমর পাঠের ওপর আর কিছুই হতে পারে না। পাশাপাশি দূরদর্শনে দেবী দুর্গার রূপ দেখার যে আনন্দ, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
গ্রামের জমিদার বাড়ির পুজোয় আনন্দের জোয়ার:
ত্বরিতা আরও জানান, মহালয়া শেষ হতেই শুরু হয়ে যেত তাঁদের নিজেদের বাড়ির পুজোর জোরদার তোড়জোড়। কামারপুকুর ও জয়রামবাটির মধ্যবর্তী তাজপুর গ্রামে ত্বরিতাদের আদি বাড়ি। তাঁর দাদু ছিলেন সেখানকার নামজাদা জমিদার। পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই পুজোর ছুটিতে সমস্ত ভাইবোনদের নিয়ে তাঁরা সোজা চলে যেতেন গ্রামের বাড়িতে। পিসি, জ্যাঠা এবং তাঁদের ছেলেমেয়েদের আগমনে আক্ষরিক অর্থেই হই-হই রই-রই কাণ্ড ঘটে যেত পুরো জমিদার বাড়িতে।
সময়ের নিয়মে অনেক কিছু পাল্টালেও, ছোটবেলার সেই আবেগ ও যৌথ পরিবারের পুজোর আনন্দ উদযাপন আজও একই রকমভাবে বজায় রয়েছে অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারে।