“দয়া করে ঘুমিয়ে পড়বেন না!” বিমানে সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাত, রক্তাক্ত ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে বাঁচানোর রোমহর্ষক ৪৫ মিনিট!

তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে মাঝ আকাশে ঘটে গেল এক নারকীয় ও মর্মান্তিক ঘটনা। সহ-পাইলটের অতর্কিত ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েও অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বিমানের শত শত যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রনেতারা তাঁর এই অসম সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তবে এর সাথেই সামনে এসেছে বিমানের মধ্যে থাকা এক দেবদূতের কথা—ডেন্টিস্ট শোটা মুসায়েভ, যিনি টানা ৪৫ মিনিট মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ বাঁচিয়েছেন রক্তভেজা ক্যাপ্টেনের।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই হাড়হিম করা ঘটনার কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠেছেন ৪৭ বছর বয়সি ওই দন্তচিকিৎসক। তিনি জানান, চিৎকার ও চিকিৎসকের জন্য আর্জি শুনে তিনি ককপিটের দিকে ছুটে যান। গিয়ে দেখেন, ক্যাপ্টেন স্মিতের মাথা ও বাঁ হাতে গভীর ক্ষত, শরীর থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটছে।
“আমায় বাঁচান, আমি মরতে চাই না!”
স্মরণাতীত সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মুসায়েভ জানান, অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে ক্যাপ্টেন স্মিতের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেন্টিস্ট তাঁর নিজের সঙ্গে থাকা একাধিক টি-শার্ট দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরেন। কিন্তু রক্তপাত না থামায় বরফের প্যাকেট চেয়ে পাঠান।
একপর্যায়ে কেবিন ক্রুদের সাহায্যে স্মিতের পা দুটি ওপরের দিকে তুলে ধরা হয়, কারণ ক্যাপ্টেনের নাড়ির গতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছিল। মুসায়েভ বলেন, “হঠাৎ দেখি ওঁর ঠোঁট নীল হয়ে আসছে। বুঝলাম হাতে আর একদম সময় নেই। বিমানকর্মীদের অবিলম্বে বিমান জরুরি অবতরণ (Emergency Landing) করানোর নির্দেশ দিই।”
জ্ঞান হারানোর উপক্রম হওয়া ক্যাপ্টেনকে সচেতন রাখতে টানা কথা বলে গেছেন ওই চিকিৎসক। তিনি বলেন, “আমি ওঁকে বলছিলাম—দয়া করে ঘুমিয়ে পড়বেন না, আমাদের আপনাকে বড্ড প্রয়োজন! আপনি ভয় পাবেন না, পরিবারের কাছেই ফিরে যাবেন। ওঁর সন্তানদের নাম, বাড়ি কোথায়—এসব জিজ্ঞাসা করে ওঁকে সজাগ রাখার চেষ্টা করছিলাম।” মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও রক্তাক্ত স্মিত আর্তনাদ করে উঠেছিলেন, “দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। আমি এখানে এভাবে মরতে চাই না!”
নিজের জীবন বিপন্ন করেও যেভাবে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে ল্যান্ড করানোর মানসিক জোর দেখিয়েছেন, তাতে আপ্লুত ওই চিকিৎসকও। ভবিষ্যতে সুস্থ স্মিতের সঙ্গে ফের দেখা করে জড়িয়ে ধরে কৃতজ্ঞতা জানানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি।