বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেও ঘুম আসছে না? ১টি ভুল দিকে মাথা রাখাই কি কাল হচ্ছে?

সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর বিছানায় গা এলিয়ে দিলেও অনেক সময় দু’চোখের পাতা এক হতে চায় না। ঘড়ির কাঁটা ঘোরে, এপাশ-ওপাশ করেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সকালে উঠলে যেন ক্লান্তি পিছু ছাড়ে না। ঘুমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক বিষয়—ঘরের পরিবেশ, মানসিক চাপ থেকে শুরু করে বিছানার অবস্থান। তবে বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) বলছে, রাতে ঘুমানোর সময় মাথা কোন দিকে রাখছেন, সেটাই ঠিক করে দেয় আপনার ঘুমের গুণমান।
কোন দিকে মাথা রেখে ঘুমানো সবচেয়ে সেরা?
দক্ষিণ দিক (সবচেয়ে সেরা): বাস্তু নিয়ম অনুযায়ী, ঘুমানোর জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো দক্ষিণ। মনে করা হয়, দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে ঘুমালে শরীর ও মন দারুণ শান্ত থাকে, যার ফলে ঘুম গভীর হয়। বেডরুমের খাট এমনভাবে রাখা উচিত যাতে শোওয়ার সময় মাথাটা দক্ষিণ দিকেই থাকে।
পূর্ব দিক (মনোযোগ ও পজিটিভ এনার্জি): দক্ষিণের পরেই ঘুমানোর জন্য আদর্শ দিক হলো পূর্ব। বাস্তু মতে, এই দিক থেকে প্রচুর ইতিবাচক শক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী বা যাঁরা অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের পূর্ব দিকে মাথা রেখে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ঘুম ভাঙার পর মন তরতাজা থাকে এবং একাগ্রতা বাড়ে।
পশ্চিম দিক: পশ্চিম দিকে মাথা রাখা নিয়ে বাস্তুতে কড়া নিষেধাজ্ঞা নেই। ঘরের জায়গা কম থাকলে বাধ্য হয়ে অনেকে এই দিকটি বেছে নেন।
কোন দিকে মাথা রাখা একদম ভুল?
বাস্তুবিদরা উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমাতে একেবারেই বারণ করেন। প্রাচীন বিশ্বাস এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের তত্ত্ব অনুযায়ী, উত্তরে মাথা রেখে শুলে ঘুমের চরম ব্যাঘাত ঘটে এবং শরীর ও মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ঘুম ভালো করার অতিরিক্ত টিপস:
শুধু মাথার দিক বদলালেই যে রাতারাতি সব মুশকিল আসান হবে, তা নয়। গভীর ও স্বস্তিদায়ক ঘুমের জন্য ঘর শান্ত রাখা, শোওয়ার আগে ঘরের আলো কমিয়ে দেওয়া এবং বিছানায় শুয়ে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করার মতো অভ্যাসে বদল আনাও অত্যন্ত জরুরি।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাস্তুশাস্ত্রের এই নিয়মগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রচলিত বিশ্বাস ও প্রাচীন ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ঘুমের টানা সমস্যা বা শারীরিক কোনো অস্বস্তি থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)