‘আসুন বন্ধু হই!’ নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু পাড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো, রাতারাতি খুলল বিজেপির পার্টি অফিস

রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের ভোট প্রচারে সংখ্যালঘুদের প্রতি বন্ধুত্বের জোরালো বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, ‘সংখ্যালঘু ভাইবোনদের বলছি, আর মুখ ফিরিয়ে থাকবেন না। বন্ধুত্বের এটাই সঠিক সুযোগ।’ আর সেই বার্তার রেশ ধরেই প্রচারের শেষ দিনে নন্দীগ্রামের মাটিতে দেখা গেল এক সম্পূর্ণ নতুন ও চমকপ্রদ রাজনৈতিক ছবি। উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ লগ্নে মুখ্যমন্ত্রীর র্যালির সময় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে পোস্টার ও ফুলেল অভ্যর্থনা জানাতে দেখা গেল স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে।

সংখ্যালঘুদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও পোস্টার যুদ্ধ

সাধারণত রাজনৈতিক মহলে বিজেপিকে মুসলিম বিরোধী দল হিসেবে নিশানা করা হলেও, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সেই তকমা ঘুচিয়ে সার্বিক উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছেন বর্তমান শাসকদলের নেতৃত্ব। উপনির্বাচনের আবহে সেই বার্তা আরও জোরালো করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় একটি জমজমাট রোড শো করেন শুভেন্দু অধিকারী।

হাজরাকাটা রাজরামচক থেকে শুরু হওয়া এই রোড শো সামসবাদ মীরের বাজার পর্যন্ত গড়ায়। প্রথমে হুডখোলা জিপ এবং পরে গাড়িতে করে সাধারণ ভোটারদের অভিবাদন গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তায় নামার পর থেকেই নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু পাড়াগুলিতে উত্তরীয় ও ফুল ছুঁড়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাসিন্দারা। বিশেষ করে, স্থানীয়দের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা বার্তা— ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর পাশে আছি। আমরা বন্ধুত্ব করতে চাই সরকারের সঙ্গে’— রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।

সংখ্যালঘুদের উদ্যোগে বিজেপির প্রথম পার্টি অফিস!

এখানেই শেষ নয়, নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে আরও এক অভিনব ঘটনা ঘটেছে। নন্দীগ্রামের কেন্দামারি অঞ্চলের সরবেড়িয়া গ্রামে বাঁশ, ত্রিপল এবং কাপড় দিয়ে তৈরি হয়েছে বিজেপির একটি নতুন কার্যালয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাতারাতি ওই কার্যালয়টি তৈরি করেছেন স্থানীয় মুসলমান যুবকেরা। আর এই কার্যালয়ের সামনেই টাঙানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি এবং উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হাসিমুখের ব্যানার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামে এই প্রথম সংখ্যালঘুদের উদ্যোগে কোনো বিজেপি কার্যালয় তৈরি হলো।

আবু তাহেরের স্ত্রী ও পুত্রের শুভেচ্ছা

রবিবার এই প্রচারে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখা যায়। এদিন বিজেপির র্যালিতে শুভেন্দু অধিকারীর মাথায় ফুল দিতে এগিয়ে আসেন একসময়ের মমতা-ঘনিষ্ঠ দাপুটে তৃণমূল নেতা আবু তাহেরের স্ত্রী ও পুত্র। আবু তাহেরের স্ত্রী আনিশা খাতুন এবং পুত্র ওয়াশিমের সঙ্গে খোশগল্পেও মাততে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে।

পরে গণমাধ্যমের সামনে সেই সৌহার্দ্যের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওয়াশিমকে তিনি ছোটবেলা থেকেই চেনেন এবং তার পড়াশোনার খোঁজ নিয়েছেন। অন্যদিকে, আনিশা খাতুন ফুল ছিটিয়ে শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানান। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, তাঁরা প্রতিটি মহিলাকে ‘মাতৃশক্তি’ হিসেবে সম্মান করেন এবং এই পারস্পরিক সৌহার্দ্যকে তাঁরা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। সবমিলিয়ে, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের শেষবেলায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় ও সাড়া ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *