ব্যবসায়ীদের জন্য বিরাট স্বস্তি! জিএসটি আইনে বড় বদল এনে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় পরিবর্তনের পথে সরকার?

জিএসটি (GST) ব্যবস্থায় কর ফাঁকি এবং জালিয়াতি সংক্রান্ত নিয়মে এবার বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আগামী ৭ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা গুরুত্বপূর্ণ জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে প্রয়োগ বিধিমালায় বেশ কিছু বড় সংশোধনী আনা হতে পারে। প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি হতে পারে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নিয়মে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করার আগে আদালতের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি, ফৌজদারি মামলার সীমা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করার একটি বড় প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।
বর্তমান ব্যবস্থা বনাম প্রস্তাবিত পরিবর্তন
বর্তমানে সিজিএসটি আইনের ৬৯ ধারা অনুযায়ী জিএসটি কর্মকর্তারা কিছু গুরুতর অপরাধ বা ১ কোটি টাকার বেশি কর ফাঁকি ও প্রতারণামূলক ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC)-এর অভিযোগে কমিশনার-স্তরের পূর্বানুমোদনে সরাসরি গ্রেপ্তার করতে পারেন। তবে নতুন প্রস্তাবগুলিতে যে সমস্ত বড় পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে সেগুলি হলো:
গ্রেপ্তারের জন্য আদালতের অনুমোদন: প্রস্তাবটি পাশ হলে জিএসটি কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কাউকে সরাসরি গ্রেপ্তার করতে পারবেন না। প্রতিটি গ্রেপ্তারের আগে বিচারিক বা আদালতের অনুমোদনের বাধ্যতামূলক নিয়ম চালু হতে পারে, যার ফলে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও তদারকি বাড়বে।
ফৌজদারি মামলার সীমা বৃদ্ধি (৫ কোটি টাকা): বর্তমানে ১ কোটি টাকার বেশি কর ফাঁকি থাকলেই ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এই সীমা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করার ফলে ছোট ও মাঝারি অঙ্কের বিরোধগুলির ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার হয়রানি কমবে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি বড় অপরাধের ওপর বেশি নজর দিতে পারবে।
কর বিরোধ এবং অপরাধের পৃথকীকরণ: সাধারণ করের হার, মূল্যায়ন বা আইটিসি সংক্রান্ত মতপার্থক্য এবং ইচ্ছাকৃত অপরাধের মধ্যে ফারাক করা হবে। সাধারণ কর বিরোধগুলিকে ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে কেবল দেওয়ানি জরিমানা ও কর আদায়ের মাধ্যমে সমাধানের কথা বলা হয়েছে।
সরকার কেন এই পরিবর্তনের কথা ভাবছে?
বিগত তিন বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিএসটি ফাঁকির ঘটনা লাগাতার বেড়েছে। ২০২৩-২৪ সালে যেখানে ৯,১৯০টি কর ফাঁকির ঘটনা সামনে এসেছিল, ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০,১৬২টিতে। তিন বছরে মোট ১.৭০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কর ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে এবং মোট ৭১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকার এখন কেবল গ্রেপ্তারের ওপর ভরসা না করে উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স, জাল প্যান ও আধার কার্ড শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুয়া আইটিসি নেটওয়ার্ক ও বড় আকারের সংগঠিত জালিয়াতি দমনের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। সাধারণ কর বিরোধগুলোকে ফৌজদারি মামলা থেকে আলাদা করার এই পদক্ষেপে ব্যবসায়ীদের ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বা ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ অনেকটাই সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী পদক্ষেপ
আগামী ৭ই অক্টোবর জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এই সমস্ত প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কাউন্সিল যদি এই সুপারিশগুলিতে সবুজ সঙ্কেত দেয়, তবে তা কার্যকরের জন্য জিএসটি আইনে উপযুক্ত সংশোধন আনতে হবে। ততদিন পর্যন্ত জিএসটি আধিকারিকদের পুরোনো ক্ষমতা ও নিয়মের মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।