জামিয়া হিংসা থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গা—বিতর্কিত একাধিক মামলা একসঙ্গে খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট!

ফেব্রুয়ারি ২০২০-র উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গা এবং তার আগে বিভিন্ন নেতার বিতর্কিত ‘হেট স্পিচ’ বা প্ররোচনামূলক ভাষণ সংক্রান্ত একাধিক মামলায় বড়সড় রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে সিএএ (CAA) বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় পুলিশি নির্যাতনের ঘটনার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) বা বিশেষ তদন্তকারী দল দিয়ে তদন্ত করানোর দাবিও আদালত খারিজ করেছে।
ঠিক কী ছিল এই মামলাগুলির পটভূমি?
২০১৯-২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (CAA) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (NRC)-র বিরোধিতায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। সেই সময় বিভিন্ন নেতার উস্কানিমূলক ভাষণের জেরে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ সেই সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এই দাঙ্গার নেপথ্যে থাকা হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আদালতে বেশ কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
সোমবারে বিচারপতি বিবেক চৌধুরী এবং বিচারপতি মনোজ জৈনের ডিভিশন বেঞ্চ এই সমস্ত মামলা একসঙ্গে খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি, জামিয়া ক্যাম্পাসে পুলিশি অত্যাচারের ঘটনার এসআইটি তদন্ত চেয়ে শিক্ষার্থীদের করা আবেদনও আদালতের নির্দেশ খারিজ হয়ে গিয়েছে।
কার কার বিরুদ্ধে ছিল এফআইআর-এর দাবি?
বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে: শেখ মুজতবা ফারুক নামক এক ব্যক্তির করা একটি আবেদনে বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর, কপিল মিশ্র এবং প্রবেশ সাহেব সিং ভার্মার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল।
বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে: ‘লয়ার্স ভয়েস’ নামক সংস্থার অপর একটি আবেদনে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, মনীশ সিসোদিয়া, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-সহ একাধিক বিরোধী নেতা এবং এক অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের আর্জি রাখা হয়েছিল।
অন্যান্য আবেদন: সিপিএম (CPI-M) নেত্রী বৃন্দা করাত এবং ‘জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ’-এর পক্ষ থেকেও এই সংক্রান্ত পৃথক মামলা করা হয়েছিল। এছাড়া সমাজকর্মী অজয় গৌতমের একটি আর্জিতে এই আন্দোলনের পিছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও বিদেশি ফান্ডিংয়ের অভিযোগ তুলে এনআইএ (NIA) তদন্তের দাবি জানানো হলেও, হাইকোর্ট এই সমস্ত আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে।