অজানা নম্বর থেকে মেসেজ আসার আগেই সাবধান! হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন ফিচারটি বাঁচাবে আপনার কষ্টের টাকা

মোবাইলের স্ক্রিনে হঠাৎ কোনো অজানা নম্বর থেকে মেসেজ এলেই বেশিরভাগ মানুষ না ভেবেই তা ওপেন করেন। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা, পুরোনো বন্ধু বা সুপরিচিত কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। প্রথম নজরে এই মেসেজগুলো এতটাই নিরীহ ও স্বাভাবিক মনে হয় যে, কেউ সহজে সন্দেহ করতে পারেন না। এরপর কথাবার্তার ফাঁকে টাকা পাঠানো, অজানা লিঙ্কে ক্লিক করা বা গোপন ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার জন্য সূক্ষ্মভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল প্রতারণা থেকে জনসাধারণকে সুরক্ষিত রাখতে এবার এক অভিনব সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আসছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। সংস্থাটি খুব শীঘ্রই ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ (Scam Alert) নামের একটি নতুন ফিচার চালু করতে চলেছে, যা সন্দেহজনক চ্যাট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেবে।
অপরিচিত নম্বর থেকে প্রতারণা শনাক্ত করার উপায়
ডিজিটাল জগতে প্রতারকদের সবচেয়ে বড় হাতি হলো মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা। তারা প্রায়ই জরুরি অবস্থার ভান করে—যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া কিংবা বিপদে পড়া কোনো পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে জাহির করা। সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে একটি স্বাভাবিক কথোপকথন এবং নিখুঁত প্রতারণামূলক ফাঁদের মধ্যে তফাত বোঝা সবসময় সহজ হয় না।
হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত অজানা নম্বর থেকে আসা চ্যাটগুলোর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করবে। এর মূল লক্ষ্য হলো কোনো আর্থিক ক্ষতি বা বিপর্যয় ঘটার আগেই ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেওয়া। ফলে প্রতারণার ফাঁদে পা দেওয়ার আগেই মানুষ দুবার ভাবার সুযোগ পাবেন।
ফোনের ভেতরেই কাজ করবে স্মার্ট মেশিন লার্নিং সিস্টেম
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের অত্যন্ত উন্নত মেশিন লার্নিং মডেলের ওপর ভিত্তি করে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনের ভেতরেই মেসেজের ধরন ও প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে। এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি নতুন বা অজানা নম্বরকে সঙ্গে সঙ্গে ভুয়া বা প্রতারক বলে চিহ্নিত করা হবে।
বরং, এই সিস্টেমটি পূর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে মিল থাকা নির্দিষ্ট শব্দ, বাক্য বা কথোপকথনের প্যাটার্নগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করে। গোপনীয়তার দিকটিও এখানে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশ্লেষণের জন্য কোনো চ্যাট বা মেসেজের কন্টেন্ট কোম্পানির কোনো সার্ভারে পাঠানো হয় না। সমস্ত ডেটা ও বিশ্লেষণ ব্যবহারকারীর ফোনের ভেতরেই সংরক্ষিত থাকে, যা গোপনীয়তা বজায় রাখে।
সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ব্যবহারকারীর হাতেই
এই নতুন ফিচারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এটি ব্যবহারকারীর ওপর জোর করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় না। মেশিন লার্নিং মডেলটি যখনই কোনো অজানা চ্যাটে অস্বাভাবিকতার সামান্য লক্ষণও দেখতে পায়, তখন স্ক্রিনে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা ফুটিয়ে তোলে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ব্যবহারকারীর নিজের বুদ্ধিমত্তা ও বিবেচনার ওপর।
যদি ব্যবহারকারীর মনে হয় যে অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি সত্যিই সন্দেহজনক, তবে তারা এক ক্লিকেই নম্বরটি ব্লক করতে পারবেন কিংবা সরাসরি রিপোর্ট করতে পারবেন।
অন্যদিকে, যদি বার্তাটি কোনো দূর সম্পর্কের আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে আসে এবং সিস্টেমটি ভুলবশত সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে, তবে ব্যবহারকারী সেই চ্যাটটিকে ‘বিশ্বস্ত’ (Trusted) হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাভাবিকভাবে কথা চালিয়ে যেতে পারবেন। সিস্টেম নিজে থেকে কোনো চ্যাট রিপোর্ট করে না, এর জন্য ব্যবহারকারীর সরাসরি অনুমতির প্রয়োজন হয়।
কীভাবে সক্রিয় করবেন এই নতুন ফিচার?
এই নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব অ্যাকাউন্টে চালু নাও হতে পারে, এর জন্য ম্যানুয়ালি সেটিংসে কিছু পরিবর্তন করতে হতে পারে। ফিচারটি আপনার অ্যাকাউন্টে উপলব্ধ থাকলে যেভাবে চালু করবেন:
আপনার ফোনে WhatsApp খুলে মূল Settings অপশনে যান।
সেটিংস মেনুর ভেতর থেকে ‘Account’ অপশনে ট্যাপ করুন।
সেখানে আপনি ‘Scam Alert’ নামের নতুন অপশনটি দেখতে পাবেন।
এরপর ওই অপশনে গিয়ে টগলটি On বা সক্রিয় করে দিন।
বর্তমানে এই ফিচারটি শুধুমাত্র নির্বাচিত অ্যান্ড্রয়েড বিটা টেস্টারদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে উপলব্ধ করা হয়েছে। আপনার অ্যাকাউন্টে যদি এই সেটিংটি এখনও না দেখা যায়, তবে কোনো থার্ড-পার্টি বা অজানা অ্যাপ ব্যবহার করে এটি জোর করে চালু করার চেষ্টা করবেন না। কোম্পানি খুব শীঘ্রই ধাপে ধাপে সমস্ত ব্যবহারকারীর জন্য এটি রোলআউট করবে। আইফোন (iOS) ব্যবহারকারীদের এই ফিচারের জন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।