নীতীশের এক ইশারাতেই সব ঠাণ্ডা! অনন্ত সিংয়ের আচমকা ইউ-টার্নের নেপথ্যে কোন বড় রাজনৈতিক রহস্য?

বিহার বিধান পরিষদ (MLC) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চলা উত্তেজনার পারদ অবশেষে কিছুটা নামল। চার জোড়া স্নাতক এবং শিক্ষক আসন (মোট আটটি আসন) নিয়ে আগামী ২৩শে অক্টোবর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এর মধ্যেই মোকামার দাপুটে বিধায়ক অনন্ত সিং এবং জেডিইউ প্রার্থী নীরজ কুমারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিয়েছিল। তবে জেডিইউ-র শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লাল্লান সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর অবশেষে শান্ত হয়েছেন অনন্ত সিং। লাল্লান সিংয়ের অনুরোধে তিনি নীরজ কুমারের বিরুদ্ধে সমস্ত প্রচার বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন।

লাল্লান সিংয়ের মধ্যস্থতা ও সমাধান
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লাল্লান সিং জানান যে, মোকামার বিধায়ক অনন্ত সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত কথা হয়েছে। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, “আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিলেন, তবে আমার অনুরোধে তিনি নীরজ কুমারের বিরুদ্ধে আর কোনো প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” একইসঙ্গে লাল্লান সিং জোর দিয়ে দাবি করেন যে, অনন্ত সিং অতীতেও জেডিইউ-এর সঙ্গেই ছিলেন, এখনও আছেন এবং দলেই থাকবেন।

এর আগে জেডিইউ-এর অন্দরে হওয়া এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে—যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, সঞ্জয় ঝা, বিজয় চৌধুরী এবং বিজেন্দ্র যাদবরা উপস্থিত ছিলেন—এই বিরোধ মেটানোর পুরো দায়িত্বটি অর্পণ করা হয়েছিল লাল্লান সিংয়ের ওপর। পরবর্তীতে সোমবার নীতীশ কুমার ব্যক্তিগতভাবে লাল্লান সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরই এই দ্বন্দ্ব নিরসনের খবর সামনে আসে।

নীতীশের প্রতি অনন্তের অন্ধ আনুগত্য
এর আগে রবিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনন্ত সিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, “নীতীশ কুমার যদি আমাকে ফোন করেন বা তাঁর কাছ থেকে কোনো বার্তা পাই, আমি বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করব। আমি নীতীশের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত।” নীতীশ কুমারকে নিজের একমাত্র নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া অনন্ত সিং শেষ পর্যন্ত তাঁর নেতার নির্দেশেই নীরজ কুমারের বিরুদ্ধে চলা অসন্তোষ থামিয়ে দেন।

জেডিইউ-এর কাছে নীরজ কুমারের জয় কেন অত্যন্ত মর্যাদার?
পাটনা গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্র থেকে জেডিইউ-র টিকিটে লড়ছেন দলের প্রধান মুখপাত্র তথা প্রাক্তন মন্ত্রী নীরজ কুমার, যিনি এই আসনে এর আগেও তিনবার জয়লাভ করেছেন। নালন্দা, নওয়াদা, মুঙ্গের এবং পাটনা এই চারটি জেলার ভোটারদের নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি জেডিইউ-এর অত্যন্ত শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে এই আসনটির রাজনৈতিক গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, শাসক শিবির কোনোভাবেই এখানে ঝুঁকি নিতে চাইছে না। শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যস্থতায় বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট এড়াতে সক্ষম হলো জেডিইউ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *