পোলার্ডের ব্যাটে উড়ে গেল বল, বাউন্সারে সোজা ৪ রান! ক্রিকেট মাঠে এ কী কাণ্ড ঘটালেন আলি খান?

কানাডা সুপার ৬০ (Canada Super 60) টুর্নামেন্টের এক অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে এমন এক অদ্ভুত ডেলিভারি করলেন ফাস্ট বোলার আলি খান, যা নিয়ে এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার অন্ত নেই। তারকা ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ডের বিরুদ্ধে বল করতে গিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েন এই ডানহাতি পেসার।
বাউন্সারে সোজা চার রান!
ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ডানহাতি পেসার আলি খান কাইরন পোলার্ডকে একটি ভয়ানক বাউন্সার দেন। বলটি এতটাই উচ্চতায় ছিল যে পোলার্ড তো বটেই, উইকেটকিপারের মাথাও পার করে সোজা বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়! আম্পায়ার বলটিকে ওয়াইড ঘোষণা করার পাশাপাশি বাই (Bye) হিসেবে চার রানের সংকেত দেন। ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাট স্পর্শ না করে বল সোজা বাউন্ডারি লাইন পার হয়ে গেলেও বাই রান হিসেবে চার রানই যুক্ত হয়।
তবে শুধু এই একটি বলই নয়, পুরো ম্যাচেই টরন্টো সিক্সার্সের (Toronto Nationals/Sixers) ব্যাটারদের সামনে কার্যত মার খেয়ালেন আলি খান। নির্ধারিত ২ ওভারে তিনি ৪৩ রান খরচ করেন, যদিও তিনি দুটি উইকেট শিকার করেছিলেন। টরন্টো সিক্সার্সের হয়ে অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড ঝোড়ো ব্যাটিং করে মাত্র ১৬ বলে অপরাজিত ৪০ রান করেন। এছাড়া আন্দ্রেয়াস গাউস ১১ বলে ৩৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। সবমিলিয়ে ১০ ওভারে ১৩০ রান তোলে টরন্টো সিক্সার্স। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মিসিসাগা মাস্টার্স ১০ ওভারে মাত্র ১২১ রান করতে সক্ষম হয়।
নাটকীয় ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন টরন্টো সিক্সার্স
সেমিফাইনালের এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর ফাইনাল ম্যাচেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে টরন্টো সিক্সার্স। ভ্যাঙ্কুভার অ্যাঙ্কর্সের বিরুদ্ধে ফাইনালে শেষ বলে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে ফেলে দলটি। প্রথমে ব্যাট করে ভ্যাঙ্কুভার অ্যাঙ্কর্স ১০ ওভারে ১৬৪ রানের পাহাড়সমান স্কোর দাঁড় করায়।
কিন্তু সেই বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান (Nicholas Pooran)। মাত্র ২৩ বলে ৯টি ছক্কা ও ২টি চারের সাহায্যে বিস্ফোরক ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পাশাপাশি অধিনায়ক পোলার্ড ১৩ বলে ৩৫ এবং ড্যানিয়েল স্যামস ৯ বলে অপরাজিত ২৫ রানের সুবাদে শেষ বলে ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় টরন্টো সিক্সার্স। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ফাইনালের ম্যাচ সেরা এবং গোটা সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ওঠে নিকোলাস পুরানের হাতেই, যিনি পুরো টুর্নামেন্টে সর্বমোট ২০৭ রান সংগ্রহ করেছেন।