সকালের কফি কাপের পিছনের আসল রহস্য কী জানেন? ভারতের কোন শহরকে বলা হয় কফির রাজধানী?

সকালবেলা এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম কফি না হলে অনেকেরই দিন যেন ঠিক জমতে চায় না। ঘুম ভাঙানিয়া এই পানীয়টি ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রার কথা কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, আপনার কাপে চুমুক দেওয়া এই রিফ্রেশিং পানীয় আসলে কোথা থেকে আসে? জানেন কি ভারতের সবথেকে বড় কফি উৎপাদক অঞ্চলের আসল রহস্য কী?
ভারতের কফি রাজধানী: কুর্গ বা কোডাগু
পশ্চিমঘাটের কোলে লুকিয়ে থাকা একটি বিশেষ অঞ্চল তার মনোরম পাহাড় এবং দিগন্ত বিস্তৃত বাগানের জন্য দারুণ জনপ্রিয়। এখানকার আর্দ্র আবহাওয়া, প্রচুর বৃষ্টিপাত আর উর্বর মাটি কফি চাষের জন্য একেবারে আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। গোটা ভারতের মধ্যে কর্নাটক রাজ্যেই সবথেকে বেশি কফির ফলন হয়।
বিশেষ করে এই রাজ্যের কোডাগু বা কুর্গ (Kodagu or Coorg) জেলাকেই ভারতের ‘কফির রাজধানী’ বলা হয়। মাদিকেরি শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই পাহাড়ি এলাকায় মূলত অ্যারাবিকা এবং রোবাস্টা— এই দুই ধরনের কফির চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। এর মধ্যে অ্যারাবিকা তার চমৎকার সুগন্ধের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত, আর রোবাস্টার ফলন বেশি হয় এবং এর স্বাদ বেশ কড়া। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কোডাগুতে প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন কফি উৎপাদিত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কফি উৎপাদনে কর্নাটকের চিকমাগালুর এবং হাসান জেলাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে বিপুল উৎপাদনের নিরিখে অন্যান্য সব জায়গাকে পিছনে ফেলে কোডাগুই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
কফি চাষের চমকপ্রদ ইতিহাস
কর্নাটকে কফি চাষের ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও রোমাঞ্চকর। কর্নাটক পর্যটন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭শ শতকে বাবা বুদানগিরি পাহাড়ে প্রথম কফির বীজ রোপণ করা হয়েছিল। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য প্রান্তে এই জনপ্রিয় পানীয়ের চাষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব বাজারে ভারতের অবস্থান ও পর্যটন
তবে বিশ্বব্যাপী কফি বাজারের নিরিখে ভারত একটি ছোট অংশ মাত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদক দেশ হলো ব্রাজিল। ২০২৫-২৬ সালে সারা বিশ্বের মোট কফি উৎপাদনের প্রায় ৩৫.২ শতাংশ একাই উৎপাদন করবে ব্রাজিল, যার ঠিক পরেই রয়েছে ভিয়েতনামের নাম।
অন্যদিকে, কোডাগুর এই বিস্তীর্ণ কফি বাগানগুলো শুধু দেশের অর্থনীতিতেই বড় ভূমিকা রাখে না, পর্যটকদের কাছেও দারুণ আকর্ষণীয়। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাঁটি কফি সংস্কৃতির স্বাদ নিতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর মানুষ এখানে ভিড় জমান। অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কফি চাষের অভিজ্ঞতাই কোডাগুকে এই অনন্য স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।