৫০০ টাকার নোটে চরম অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি! ১ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার থাকা জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম স্টারকে গ্রফতার করল পুলিশ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউজ পাওয়ার নেশায় এক মারাত্মক কাণ্ড ঘটিয়ে শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক জনপ্রিয় নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর। মহাত্মা গান্ধীর ছবিযুক্ত ৫০০ টাকার নোট নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর ভঙ্গিতে ইনস্টাগ্রামে রিল পোস্ট করার অভিযোগে গুজরাটের সুরাট থেকে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ইনস্টাগ্রামে ১ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে, যা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বড়সড় ঝড়ের সৃষ্টি করেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
সুরাট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ওই মহিলার নাম সিমরান প্যাটেল (৪৭), যিনি সুরাটের আদাজান এলাকায় বসবাস করেন। গত ১ অক্টোবর অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী বা গান্ধী জয়ন্তীর ঠিক আগের দিন নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। সেই রিলটিতে তাঁকে ৫০০ টাকার একটি ভারতীয় নোট অত্যন্ত অনুপযুক্ত ও অবমাননাকর ভঙ্গিতে হাতে নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়।
সামাজিক কর্মী ধর্মেশ গামী (Dharmesh Gami) এই আপত্তিকর রিলের বিরুদ্ধে সুরাট ক্রাইম ব্রাঞ্চে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৎপর হয় পুলিশ এবং আইটি অ্যাক্টের (IT Act) ৬৭ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করে সিমরান প্যাটেলকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, বিয়ের পর গত ১৭ বছর ধরে সুরাটে বসবাস করছেন সিমরান। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা এই মহিলা গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত বিভিন্ন শর্ট ভিডিও তৈরি করে আসছিলেন।
পুলিশের ‘বিফোর অ্যান্ড আফটার’ ভিডিও ও ক্ষমা প্রার্থনা
মহিলার গ্রেফতারির পরই সুরাট পুলিশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে একটি ‘বিফোর অ্যান্ড আফটার’ (Before and After) ভিডিও শেয়ার করা হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রথম ভিডিওটিতে দেখা যায় সেই অহংকারী রিল, যেখানে তিনি ৫০০ টাকার নোট নিয়ে আপত্তিকর আচরণ করছেন। আর দ্বিতীয় ভিডিওটিতে দেখা যায় ঠিক তার উল্টো ছবি— হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় কাটার সুরে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইছেন সিমরান প্যাটেল।
এই ঘটনার পর সুরাট সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কোনো অশ্লীল বা সংবেদনশীল কনটেন্ট পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন যা সমাজে ধর্মীয় বা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। আইন অমান্য করলে যে কাউকেই এভাবেই কঠোর আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো।