“অপরাধীদের মনে এমন ভয় ঢোকাও…” ধর্ষণ রুখতে এবার সুপ্রিম কোর্টের এমন কঠোর বার্তা যা শুনলে শিউরে উঠবেন!

জাতীয় রাজধানী দিল্লি এবং এর সংলগ্ন এনসিআর (NCR)-এ নারী ও নাবালিকাদের ওপর লাগাতার ধর্ষণ এবং যৌন অপরাধের ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে খোদ সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি পুলিশের কাছে জানতে চাইল যে, রাজধানীতে ধর্ষণ এবং যৌন অপরাধের মতো জঘন্য ঘটনাগুলি চিরতরে রোধ করতে পুলিশ কী কী ধরনের আগাম প্রতিরোধমূলক বা প্রিভেন্টিভ পুলিশিং ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে?
‘অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করতে হবে’
বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ এই মামলার শুনানি চলাকালীন অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, শুধু নির্দেশ বা গাইডলাইন কাগজে-কলমে আটকে থাকলে চলবে না; সেই নির্দেশগুলির প্রকৃত প্রভাব একেবারে মাটির স্তরে বা বাস্তবে দৃশ্যমান হতে হবে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দিল্লি পুলিশকে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, “অপরাধীদের মনে এমন একটা ভয় ঢুকিয়ে দিতে হবে যাতে এই ধরনের কুকর্ম করার কথা ভাবলেই তাদের আত্মার কাঁপুনি ধরে। এই ধরনের অপরাধে প্রলুব্ধ ব্যক্তিদের মনের মধ্যে একটা চরম ভয়ের আবহ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।” একই সঙ্গে অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের মানবাধিকার এবং সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়েও এদিনের শুনানিতে আলোচনা হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় কড়া নজরদারি
এদিনের শুনানিতে বিচারপতি পারদিওয়ালা বিশেষভাবে স্কুল ও কলেজের চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সমাজবিরোধীরা নতুন ছাত্রছাত্রীদের উত্যক্ত করে বা হয়রানি করে, সেই সমস্ত সংবেদনশীল স্থানগুলিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন তিনি। গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের তরফে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পার্ক, রাস্তা, বাজার এবং গণপরিবহণসহ সমস্ত জনবহুল স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তলব করা হয়েছিল। বিশেষ করে গভীর রাতে বা ভোরের দিকে যখন জনসমাগম কম থাকে, তখনকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।
পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আস্থার সম্পর্ক জরুরি
সুপ্রিম কোর্ট পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। আদালতের স্পষ্ট বার্তা হলো, পুলিশকে এমন একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে হবে যেখানে সাধারণ মানুষ যেকোনো সমস্যায় সাহায্যের জন্য নির্দ্বিধায় এগিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে মহিলা এবং শিশুরা যাতে কোনো ধরনের ভয় বা দ্বিধাবোধ ছাড়াই কোনো হুমকি বা ক্ষোভের মুখে পড়ে সরাসরি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে আদালত জেলা প্রশাসনকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি হেল্পলাইন নম্বরগুলি ব্যাপকভাবে প্রচার করার নির্দেশও দিয়েছিল।