১০০ বছর বাঁচা কোন ব্যাপারই নয়! যদি নিয়ম করে এই আলুটি খান

বিশেষ কোনও কারণে হঠাৎ জীবনবিমুখ হয়ে না পড়লে, দীর্ঘজীবী হতে চান সকলেই। শারীরিক সুস্থতা দীর্ঘজীবী হওয়ার রাস্তা নিঃসন্দেহে প্রশস্ত করে। এবং সেই কাম্য সুস্থতা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এক বিশেষ ধরনের আলু।

অ্যাঞ্জেলা রিপন পরিচালিত ‘হাউ টু স্টে ইয়ং’ নামের এই তথ্যচিত্রে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের বাসিন্দাদের দীর্ঘজীবনের রহস্যভেদ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ওকিনাওয়ার পুরুষদের গড় আয়ু ৮৪-৯০ বছর আর মহিলাদের ৭৮-৮১ বছর। শতায়ু মানুষের সংখ্যে সেখানে মোটেই বিরল নয়। অধ্যাপক ক্রেইগ উইলকক্স এক দশকের বেশি সময় ধরে ওকিনাওয়ার মানুষদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর মন্তব্য এই তথ্যচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এবং তাঁর মতে, এই দ্বীপে চাষ হওয়া এক বিশেষ ধরনের বেগুনি আলুর গুণেই দীর্ঘদিন জীবিত থাকতে পারেন ওকিনাওয়ার মানুষজন।

এই আলুকে ইংরেজিতে বলা হয় পার্পল সুইট পটাটো। নামেই প্রকাশ, এই আলু স্বাদে মিষ্টি। উইলকক্স জানাচ্ছেন, এই বেগুনি মিষ্টি আলু ভুরি ভুরি চাষ হয় ওকিনাওয়ায়। দ্বীপের বাসিন্দারা এই আলু খানও পেট ভরে। ওঁদের কোনও খাওয়াই সম্পূর্ণ হয় না বেগুনি আলু ছাড়া। এবং আমার ধারণা, এই আলুর গুণেই তাঁরা অনায়াসে শতায়ু হতে পারেন। কিন্তু কী এমন রয়েছে এই বেগুনি আলুতে? উইলকক্স জানাচ্ছেন, এই আলুতে থাকে অ্যান্থোসাইনিন, প্রোটিন এবং বেশ কিছু খনিজ লবণ।

এই সমস্ত উপাদান রক্তনালী এবং হৃদয়ের প্রকোষ্ঠগুলিকে সুস্থ-সবল থাকতে সাহায্য করে। এবং তার পরিণামে মানুষ দীর্ঘজীবী হতে পারে। তবে উইলকক্স জানিয়েছেন, ওকিনাওয়ার বাসিন্দারা কিন্তু খুব সুস্থ এবং আনন্দোচ্ছ্বল জীবনযাপনও করেন। ওঁরা কাছাকাছি কোথাও যেতে হলে সাধারণত হেঁটেই যান।

অবসর সময় কাটান পরিবারের বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে খোশগল্প করে। এতে শরীর ও মন দুই-ই ভাল থাকে। সেটাও একটি মানুষকে দীর্ঘজীবী হতে সহায়তা করে, ব্যাখ্যা উইলকক্সের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *