খাদ্য সুরক্ষা পরীক্ষায় ফেল নেসলের জনপ্রিয় ডেইরি হোয়াইটনার! ‘অনিরাপদ’ ও ‘নিম্নমানের’ ঘোষণা করতেই বাজারে চরম শোরগোল!

প্যাকেটজাত দুগ্ধজাত পণ্যের গুণমান এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার দেশজুড়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। দেশের শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজি (FMCG) সংস্থা নেসলে ইন্ডিয়ার (Nestle India) একটি জনপ্রিয় লো-ফ্যাট ডেইরি হোয়াইটনারের নমুনা সরকারি পরীক্ষাগারে পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষায় নির্ধারিত মান পূরণে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর কঠোর নির্দেশিকা ও প্রোটোকল অনুসারে পরিচালিত গুণমান পরীক্ষায় নির্দিষ্ট মানদণ্ড থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি ধরা পড়ার পর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সরকারি ল্যাব পরীক্ষায় কেন ফেল করল নেসলের পণ্য?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন দিল্লির অভিজাত ‘দ্য ললিত হোটেল’ থেকে নেসলে ইন্ডিয়ার ওই লো-ফ্যাট ডেইরি হোয়াইটনারের একটি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু খাদ্য বিশ্লেষকের পরীক্ষাগার রিপোর্ট হাতে আসতেই দেখা যায় যে, পণ্যটি ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট, ২০০৬’ (Food Safety and Standards Act, 2006) এর নিয়মগুলি মেনে চলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আর এর পরই ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-র তরফে ওই নমুনাটিকে সরাসরি “অনিরাপদ” এবং “নিম্নমানের” বলে কড়া ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছে।
নেসলে ইন্ডিয়ার সাফাই ও যুক্তি
সরকারি ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই অবশ্য নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দিয়েছে বহুজাতিক সংস্থা নেসলে ইন্ডিয়া। সংস্থার দাবি, তাদের উৎপাদিত লো-ফ্যাট ডেইরি হোয়াইটনারটি খাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি নিয়মকানুন মেনেই তৈরি করা হয়।
কোম্পানির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এফএসএসএআই-এর ল্যাব রিপোর্টে ফসফরাসের মাত্রা অতিরিক্ত বা সংযোজন সীমা অতিক্রম করেছে বলে দেখানো হলেও, এর নেপথ্যে একটি বড় প্রযুক্তিগত ফারাক রয়েছে। দুধে প্রাকৃতিকভাবেই ফসফরাস একটি পুষ্টি উপাদান হিসেবে উপস্থিত থাকে এবং যেকোনো দুগ্ধজাত পণ্যের মধ্যেই এটি স্বাভাবিকভাবেই থাকে। কিন্তু ল্যাব টেস্টের সময় সেই প্রাকৃতিকভাবে উপস্থিত ফসফরাসকে হিসাবে ধরা হয়নি। নেসলের দাবি, তাদের পণ্যটি শেলফ লাইফ সহ এফএসএসআর-এর অধীনে নির্ধারিত সমস্ত মানদণ্ড ও নিয়মাবলী সম্পূর্ণরূপে মেনে চলে।
আইনি নোটিশ ও বাজারে প্রভাব
পরীক্ষার এই হতাশাজনক রিপোর্টের পর, সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তরফে ইতিমধ্যেই কারণ দর্শানোর জন্য কোম্পানিকে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাজারে থাকা ওই নির্দিষ্ট লট বা ব্যাচটির বিক্রয় ও বিতরণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পর্যালোচনা করে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
বাড়িতে এবং বাণিজ্যিক হোটেল বা রেস্তোরাঁগুলিতে চা ও কফিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই ডেইরি হোয়াইটনারের নমুনা ফেল করায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও প্যাকেটজাত এফএমসিজি পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে নেসলে ইন্ডিয়ার একচ্ছত্র ও শক্তিশালী অবস্থান থাকায়, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ব্র্যান্ডের সুনাম এবং সামগ্রিক ভোক্তা অনুভূতির দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই পুরো পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে শুরু করেছেন শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরাও।