বাবারাও পাবেন সবেতন পিতৃত্বকালীন ছুটি! সন্তান জন্মের পর ৩৬৫ দিন ছুটির বিরাট প্রস্তাব নিয়ে এল জাতীয় মহিলা কমিশন

কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রকৃত সমতা আনতে এবং পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করতে চলেছে জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি এবার থেকে হবু বাবাকেও সবেতন ‘পিতৃত্বকালীন ছুটি’ (Paternity Leave) দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি একই অফিসে কর্মরত হন, তবে সন্তান জন্মের পর ছুটির নিয়মেও আসতে চলেছে বড় চমক।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগের কাছে একটি বিশদ সুপারিশপত্র পেশ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। খুব শীঘ্রই ভারতে এই সুবিধাগুলো আইনগতভাবে চালু করার জোরদার আবেদন জানানো হয়েছে।

সুপারিশ পত্রে কী কী দাবি করেছে কমিশন?

পিতৃত্বকালীন ও শিশু-যত্ন ছুটি: কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ ‘শিশু-যত্ন ছুটি’ (Child Care Leave বা CCL) এবং বাধ্যতামূলক সবেতন পিতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এতদিনকার ৭৩০ দিনের সিসিএল ব্যবস্থাকে কর্মরত বাবা-মায়ের মধ্যে সমানভাবে—অর্থাৎ প্রত্যেকে ৩৬৫ দিন করে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

যৌথ ছুটির ভাণ্ডার (Common Pool): একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দম্পতির ক্ষেত্রে একটি কমন পুল বা যৌথ ছুটির ভাণ্ডার ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এমনকি ০ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মধ্যে ৬০:৪০ অনুপাতে পরিচর্যার দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে।

ক্রেস ও ক্রেশ নেটওয়ার্ক: ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে অন্তত ৫ লক্ষ শিশু-যত্ন কেন্দ্র বা ‘ক্রেস’ (Creche) গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অসংগঠিত ও গিগ কর্মীদের সুরক্ষা: দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি নারী কর্মী এখনও কার্যকর সুরক্ষার বাইরে রয়েছেন। তাই অসংগঠিত ক্ষেত্র, ‘গিগ’ এবং ‘প্ল্যাটফর্ম’ কর্মীদের জন্যও মাতৃত্বকালীন ও শিশু-যত্ন সংক্রান্ত সুবিধা সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

দত্তক ও কমিশনিং মায়েদের সুবিধা: ‘প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা’-কে একটি সর্বজনীন অধিকার হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি গর্ভধারিণী, দত্তক গ্রহণকারী এবং ‘কমিশনিং’ মায়েদের মাতৃত্বকালীন সুবিধায় সমতা আনার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে দত্তক ও কমিশনিং মায়েদের ছুটির মেয়াদ ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে সোজা ২৬ সপ্তাহ করার কথা বলা হয়েছে।

মহিলা কমিশনের এই দূরদর্শী প্রস্তাবগুলি কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জীবনে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্র সরকার এই সুপারিশগুলিতে সিলমোহর দিলে আগামী দিনে ভারতীয় কর্মসংস্কৃতিতে এক বিরাট বিপ্লব আসতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *