ADM-কে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি! বড় বিপদে কংগ্রেস নেতা, তুলকালাম বাংলায়

দিঘির দখল ও মাছ চাষের অধিকার নিয়ে বিরোধের জেরে সরাসরি অতিরিক্ত জেলাশাসককে (ADM) হুমকি এবং গালিগালাজ করার গুরুতর অভিযোগ উঠল দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা শুভাশিস পাল ওরফে সোনা পালের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে বালুরঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও রাজস্ব) ইজাজ আহমেদ। প্রশাসনিক স্তরে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে উত্তরবঙ্গজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল প্রশাসনিক ভবনে?

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হরিরামপুর এলাকায় জেলা পরিষদের অধীনে থাকা কয়েকটি দিঘিতে মাছ চাষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন কংগ্রেস নেতা সোনা পাল। এই বিষয়ে কথা বলার জন্যই গত বুধবার তিনি সোজা প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে উপস্থিত হন। অভিযোগ, অতিরিক্ত জেলাশাসক ইজাজ আহমেদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন ওই নেতা। তীব্র উত্তেজনার বশে তিনি শুধু অসৌজন্যমূলক আচরণই করেননি, খোদ সরকারি আধিকারিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করেন এডিএম।

কী সাফাই দিলেন অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতা?

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অস্বীকার করেছেন সোনা পাল। তাঁর পালটা দাবি, “আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দিঘিগুলিতে জোর করে তৃণমূলের লোকজন বেআইনিভাবে মাছ চাষ করে চলেছে। এই বিষয়ে স্থানীয় থানা এবং বিএলআরও (BLRO) অফিসে একাধিকবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। বাধ্য হয়েই আমি এডিএমের কাছে বিষয়টি জানাতে গিয়েছিলাম। আমি তাঁর সঙ্গে কোনো দুর্ব্যবহার করিনি।”

কী বলছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক ও পুলিশ?

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলাশাসক ইজাজ আহমেদ জানান, “দিঘির বিষয়টি নিয়ে উনি হাইকোর্টের কোনো অর্ডারের কথা বললে আমি সেই নির্দেশিকার কপি দেখতে চেয়েছিলাম। আর তাতেই উনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।” জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এডিএম-এর দেওয়া লিখিত অভিযোগটি হাতে পাওয়ার পরেই পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *