যন্তর মন্তরে ধুন্ধুমার! জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, আটক সৌরভ ভরদ্বাজ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার আম আদমি পার্টি (AAP), যুব কংগ্রেস এবং বিভিন্ন বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তি। পূর্বঘোষিত এই বিক্ষোভের পক্ষে দিল্লি পুলিশের তরফে কোনো অনুমতি দেওয়া না হলেও দমে থাকেননি আন্দোলনকারীরা। ফলস্বরূপ, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা।

সৌরভ ভরদ্বাজ সহ একাধিক নেতা আটক
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন সকাল ১১টা থেকে যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বহু আগেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই আম আদমি পার্টির বিশিষ্ট নেতা তথা মুখপাত্র সৌরভ ভরদ্বাজকে পুলিশ জোর করে আটক করে। পুলিশি বলপ্রয়োগ করে আপ নেতাদের কার্যত টেনেহিঁচড়ে যন্তর মন্তর চত্বর এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে আটকের পূর্বে সৌরভ ভরদ্বাজ তাঁর সমর্থকদের পুলিশের এই দমনপীড়ন ও বলপ্রয়োগে ভীত না হওয়ার কড়া বার্তা দেন। তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানান যে, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবনের বাইরেও বিপুল পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও তিনি শেষ পর্যন্ত এই বিক্ষোভে সামিল হতে পারেন। এছাড়া দিল্লির প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া, আপ বিধায়ক অতিশী এবং সাংসদ সঞ্জয় সিং সাধারণ মানুষকে এই সমাবেশে যোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন। সঞ্জয় সিংয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, এসআইআর (SIR)-এর নামে ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

কারা ডাক দিয়েছিলেন এই আন্দোলনের?
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) এবং ভোটারদের নাম বেআইনিভাবে অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (AISA), রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং বিশিষ্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। আয়োজকদের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানাকে এই কর্মসূচি সম্পর্কে আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল এবং লোকসংখ্যা থেকে শুরু করে সময় ও আয়োজকদের সমস্ত বিবরণ পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুমতি না দিয়ে পুলিশ দমননীতি নিয়েছে বলে অভিযোগ। এই সমাবেশে আপ কর্মী-সমর্থক ছাড়াও ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের সদস্য, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

নিষেধাজ্ঞা ও মেট্রো স্টেশন বন্ধ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নয়াদিল্লির নির্দিষ্ট এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দিল্লি পুলিশ। এই নির্দেশের ফলে অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জনসভা, মিছিল, বিক্ষোভ এবং ব্যানার-প্ল্যাকার্ড বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। নয়াদিল্লির ডিসিপি শচীন শর্মা জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সমস্ত রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের তীব্রতার জেরে জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ (INA), চাউরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং নয়াদিল্লিসহ শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে শুধুমাত্র ইন্টারচেঞ্জ বা লাইন পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে চলাচলের এই কড়াকড়ির জেরে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *