কপিপিট কাণ্ডে সরাসরি তেহরানের যোগ? প্রমাণ মিললেই ইরানকে ‘খুব কঠিন আঘাত’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের!

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বাণিজ্যিক বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনায় এবার সরাসরি ইরানের সংযোগ থাকার সম্ভাবনার কথা উস্কে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে টেক্সাস যাওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প হুঙ্কার দিয়ে বলেন, এই ঘটনার নেপথ্যে তেহরানের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যদির তিরের সেই যোগসাজশ প্রমাণিত হয়, তবে ইরানকে ‘খুব কঠিন আঘাত’ করা হবে বলে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলটকে (Copilot) ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) বিমানে উঠিয়েছিল কি না কিংবা তাঁকে উগ্রপন্থায় প্ররোচিত করা হয়েছিল কি না, তদন্তকারীরা তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভয়াবহ সেই ঘটনার নেপথ্য কাহিনীসংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ১৮২ জন যাত্রী (যাঁদের বেশিরভাগই ইজরায়েলি নাগরিক) নিয়ে তেল আভিভ যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি। ওড়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানের ককপিটে শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। অভিযোগ ওঠে, ওমানের নাগরিক ওই সহ-পাইলট অতর্কিত হামলা চালান ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর। এর পরেই বিমানটি হুড়মুড়িয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। ‘Flightradar24’-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি মাত্র এক মিনিটের মধ্যে নেমে আসে ১৭ হাজার ফুটে। এরপর সৌদি আরব ও জর্ডন সীমান্তের কাছাকাছি এসে বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে ঘুরতে থাকে এবং ককপিট থেকে দুটি জরুরি সংকেত বা ‘স্কোয়াক কোড’ পাঠানো হয়। প্রথমে সাধারণ জরুরি অবস্থার সংকেত ‘7700’ এবং পরে বিমান ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের চূড়ান্ত সংকেত ‘7500’ পাঠানো হয়। যাত্রীদের সাহসিকতায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষাএই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতেও গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন স্মিত সাহসিকতা দেখিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে কিছু সাহসী যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে আক্রমণকারী সহ-পাইলটকে জাপটে ধরে ফেলেন এবং তাঁর হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলেন। এরপর বিমানে থাকা অন্য প্রশিক্ষণরত পাইলটদের সহায়তায় বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপде অবত করানো হয়। এই ঘটনায় আহত ক্যাপ্টেন স্মিতকে পরবর্তীতে আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। আন্তর্জাতিক তদন্ত ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনহামলায় ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজরায়েল, আমেরিকা ও ওমানের যৌথ উদ্যোগে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর আগে দাবি করেছিলেন যে অভিযুক্ত সহ-পাইলট ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন। তবে এর পেছনে সরাসরি তেহরানের মদত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলতে নারাজ গোয়েন্দারা। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের দীর্ঘদিনের চলমান দ্বৈরথ আরও বেশি সংবেদনশীল ও জটিল মোড় নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে ওই অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক বহর ও রণতরী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।