নিজের গগড়েই চরম নিগ্রহ অনুব্রতর! পাঞ্জাবির কলার ধরে হামলা, শেষমেশ পুলিশ কি তবে ছেড়ে দিল অভিযুক্তদের?

নিজের গড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে একেবারে নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢুকে তাঁর ওপর চড়াও হওয়া, পাঞ্জাবির কলার ধরা এবং আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। কিন্তু এত বড় ঘটনার পরও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, তিন অভিযুক্তকে ধরেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় তাঁরা ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন—এমনটাই জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে।
সিউড়ির পার্টি অফিসে তাণ্ডব
২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ২০২২ সালের পুরসভা—দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমের রাজনীতির একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। যাঁর এক একটি নির্দেশ বা মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলত, সেই কেষ্টকেই বুধবার রাতে সিউড়ির নিজস্ব পার্টি অফিসে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ ও অসহায় অবস্থায় দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, আচমকাই কয়েকজন যুবক হাতে চ্যালা কাঠ নিয়ে তাঁর অফিসে ঢুকে পড়ে। টেবিলের ওপর সজোরে আঘাত করতে করতে তাঁকে আঙুল উঁচিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এমনকি এক পর্যায়ে তাঁর পাঞ্জাবির কলার ধরেও টানাটানি করা হয়। অফিসের এসি, টেবিল-চেয়ার ও কাচের জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়।
“আমার কোনো ভুল থাকলে ক্ষমা করে দিও…”
পরিস্থিতির আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যাওয়া অনুব্রতকে আক্রমণকারীদের সামনে হাতজোড় করে বলতে শোনা যায়, “আমার কোনো ভুল থাকলে ক্ষমা করে দিও।” কিন্তু সেই আকুতিতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে উল্টে আরও ৫০ জন যুবককে ডেকে এনে তাণ্ডব চালানোর হুমকি দেয় তারা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই অনুব্রতকে মন্তব্য করতে শোনা যায়, “আমি অভিষেককে পছন্দ করি না।”
গোটা তাণ্ডবের মুহূর্তটি ভিডিও রেকর্ড করে রাখে অভিযুক্তরা। এরপর বীরদর্পে সিউড়ির অফিস থেকে বেরিয়ে বোলপুরের উদ্দেশে রওনা দেন অনুব্রত। রাতেই সেই ভিডিও দেখে তিন যুবককে চিহ্নিত করে আটক করে পুলিশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় সেই অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।