বন্যার জলে ভাসছে এলাকা, মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে কড়া ব্যবস্থা! কোন শিক্ষামন্ত্রীর হুঙ্কারে থরহরিকম্প প্রশাসন?

বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার বৈকুণ্ঠপুরে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া বিস্তীর্ণ এলাকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি সরাসরি বন্যা-বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে ছুটে যান। এদিন মন্ত্রী বানজারিয়া, ডুমরিয়া এবং গামহারি সহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলে তাঁদের যাবতীয় সমস্যার কথা শোনেন। বন্যা-আক্রান্ত মানুষের জন্য বর্তমান রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কী ধরনের ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজখবর নেন তিনি। পরিদর্শনকালে তিনি এলাকার কমিউনিটি কিচেন বা ‘গণ-রান্নাঘর’-এ গিয়ে সরাসরি বন্যাদুর্গতদের পরিবেশন করা খাবারের মান নিজে হাতে যাচাই করেন। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অত্যন্ত কড়া ভাষায় নির্দেশ দেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত খাবার পৌঁছায় এবং ত্রাণ বণ্টনের কাজে বিন্দুমাত্র গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

ফসলের ক্ষতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা
বন্যার প্রবল তোড়ে চাষের জমি ও ব্যাপক ফসলহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে তাঁদের ফসলের ক্ষতিপূরণ সহ সরকারের তরফে সমস্ত রকম আর্থিক সাহায্য দ্রুত হাতে পান, তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি ইতিমধ্যে উপমুখ্যমন্ত্রী তথা প্রভাবশালী নেতা সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকের পাশে রয়েছে এবং তাঁদের সম্ভাব্য সমস্ত রকম সহায়তা প্রদানে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আশ্বাস দেন তিনি।

বাঁধ ভাঙার ঘটনায় ১১ ঘণ্টার মধ্যে কড়া পদক্ষেপ
এদিন এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরা মন্ত্রীর কাছে সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, কিছু অসাধু ও সমাজবিরোধী দুষ্কৃতীর হীন ষড়যন্ত্র বা নাশকতার ফলেই বাঁধ ভেঙে জল দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্রামবাসীদের এই গুরুতর অভিযোগটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে গ্রহণ করে মন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাঁধ ভাঙার এই গুরুতর গাফিলতির খবর সামনে আসার মাত্র ১১ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে তড়িঘড়ি বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গণ্ডক নদীর জলস্তর কমায় কিছুটা স্বস্তি
এদিকে আশার আলো দেখিয়ে অবশেষে কমতে শুরু করেছে গণ্ডক নদীর জলস্তর। যদিও এর আগে শীতলপুর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে পার্শ্ববর্তী একাধিক এলাকায় মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী গোপালগঞ্জে গণ্ডক নদীর জলস্তর এখন প্রায় এক মিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বৈকুণ্ঠপুরের ডুমারিয়া ঘাট নদীতীরে জলের মাত্রা কমায় নিচু এলাকাগুলি থেকেও ধীরে ধীরে জল নামতে শুরু করেছে। এতে দীর্ঘক্ষণ ধরে আতঙ্কে থাকা জেলা প্রশাসন ও বন্যা কবলিত সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

জলসম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নদীর জলস্তর ক্রমাগত কমতে থাকায় বাঁধের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে বাল্মীকিনগর ব্যারেজ থেকে গণ্ডক নদীতে জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ১ লক্ষ কিউসেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। আবহাওয়া ও নদী পরিস্থিতির এমন উন্নতি বজায় থাকলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই গণ্ডক নদীর জলস্তর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশাবাদী জলসম্পদ বিভাগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *