আরজি কর কাণ্ডে বিরাট মোড়! হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ে নয়া FIR সিবিআইকে হস্তান্তরের কড়া নির্দেশ

আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের দায়ের করা নতুন এফআইআর (FIR) নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সিবিআই তদন্ত চলাকালীন কোন পরিস্থিতিতে খড়দা থানা আলাদা করে নতুন এফআইআর দায়ের করল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। এরপরই বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ অবিলম্বে ওই এফআইআর-সহ সমস্ত নথিপত্র সিবিআইকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতের ভর্ৎসনা ও খড়দা থানার পুলিশ তলব

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আরজি করের নির্যাতিতার বাবা এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, তৎকালীন শাসকদলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে তড়িঘড়ি তাঁর মেয়ের দেহ সৎকার করে দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার বিষয়টি নিয়ে সিবিআই ইতিমধ্যেই তদন্ত চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর খড়দা থানায় নতুন করে ফের একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, উচ্চ আদালতের কড়া নজরদারিতে সিবিআই যখন পুরো ঘটনার তদন্ত করছে, তখন পুলিশ কীভাবে আলাদা করে এফআইআর করতে পারে? এই বিষয়ে জবাব তলব করে খড়দা থানার আইও এবং আইসিকে আদালতে তলব করা হয়। বৃহস্পতিবার তারা হাজিরা দিলে আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, আরজি কর মামলা সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র অবিলম্বে ব্যারাকপুর এসিজেএম কোর্ট হয়ে শিয়ালদা এসিজেএমের মাধ্যমে সিবিআইকে হস্তান্তর করতে হবে।

শুভেন্দুর নির্দেশ ও নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট নির্যাতিতার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ পোড়ানোর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই উত্তর ২৪ পরগনার খড়দা থানায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর করেন নির্যাতিতার বাবা। তবে এই আইনি টানাপোড়েনের জেরে আরজি করের বিচারপ্রক্রিয়া এবং তদন্ত নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা ও চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *