৬০০ বছরের পুরনো শাহী মসজিদ ভাঙা নিয়ে উত্তাল উজ্জয়িনী! মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক এই মসজিদের নেপথ্যে রয়েছে কোন চাঞ্চল্যকর ইতিহাস?

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে রাস্তা চওড়া করাকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ভাঙার উদ্যোগ এবং তার জেরে সৃষ্ট সহিংস সংঘর্ষ বর্তমানে গোটা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতিমূলক কাজের অংশ হিসেবে এই রাস্তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শত শত বছরের পুরনো ইতিহাস ও আইনি বিতর্ক।
মসজিদের প্রাচীন ইতিহাস ও তথ্য: ওয়াকফ বোর্ডের নথিপত্র এবং ঐতিহাসিকদের তথ্য অনুযায়ী, উজ্জয়িনীর ছত্রি চক এলাকায় অবস্থিত এই ‘শাহী মসজিদ’-এর বয়স প্রায় ৬৩৬ বছর। নথি অনুযায়ী ১৩৯০ সালে মুসলিম সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। ইন্দোরের ইতিহাসবিদ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ জাফর আনসারির মতে, এই মসজিদটি মুঘল আমলেরও আগের, অর্থাৎ মালওয়া অঞ্চলের সুলতানশাহী আমলের একটি প্রাচীন স্থাপত্য। ১৯২৫ সালের ব্রিটিশ আমলের নথিতেও এই মসজিদের স্পষ্ট অস্তিত্বের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে একে ‘মোচিয়ান কি মসজিদ’ বলা হয়েছিল। এছাড়া ১৯৪৬ সালের পুরোনো মানচিত্রেও এর আইনি অবস্থানের হদিশ রয়েছে। ১৯৮৫ সালে মধ্যপ্রদেশ গেজেটে এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের আওতায় এটি নিবন্ধিত হয়।
কেন এই বিরোধ ও সংঘর্ষ? আসন্ন সিংহস্থ কুম্ভ মেলা উপলক্ষে গোপাল মন্দির থেকে মহাকাল মন্দির হয়ে শিপ্রা নদী পর্যন্ত রাস্তা ১৫ মিটার চওড়া করার মাস্টারপ্ল্যান নিয়েছে প্রশাসন। এই প্রস্তাবিত নকশার মধ্যে শাহী মসজিদের একটি অংশ পড়ায় তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পরই ২৮ সেপ্টেম্বর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছুড়তে হয়।
যদিও পরবর্তীতে মসজিদ কমিটি ও প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সরিয়ে নিতে সম্মত হয় কর্তৃপক্ষ। এই রাস্তা সম্প্রসারণের কাজের প্রভাব থেকে বাদ যাননি খোদ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও। প্রকল্পের স্বার্থে তাঁর পৈতৃক বাড়ির একটি অংশও ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলা চলাকালীন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড় সামাল দিতে এবং শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতেই এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। সমস্ত গুজব এড়িয়ে সাধারণ মানুষকে শান্ত ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।