ছোট্ট একটা খরোঁচই কেড়ে নিতে পারে জীবন! ডায়াবেটিস থাকলে এই ভুলগুলো করলেই বিপদ

ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা, যা মানুষের শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করে দেয়। রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে রক্তনালীগুলি সঙ্কুচিত ও শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে শরীরের কোনো স্থানে ক্ষত হলে সেখানে পর্যাপ্ত রক্ত, পুষ্টি উপাদান এবং অক্সিজেন পৌঁছাতে বাধা পায়। ফলস্বরূপ, ত্বক দ্রুত নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে না এবং সামান্য খরোচও বড় ধরনের সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা: নয়ডার কৈলাশ হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. রাহুল পরাশরের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সামান্য আঘাতকেও কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। উচ্চ রক্তে শর্করার কারণে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা এবং রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ায় ক্ষত শুকাতে অস্বাভাবিক দেরি হয়। তাই এই বিষয়ে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:

  • ক্ষত পরিষ্কার ও ঢাকা রাখা: শরীরে কোনো কারণে ছোটখাটো ক্ষত বা চোট লাগলে তৎক্ষণাৎ তা পরিষ্কার করে অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম লাগিয়ে পরিষ্কার ব্যান্ডেজ বা পটি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ক্ষত খোলা রাখলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

  • নंगे পায়ে হাঁটা এড়ানো: ডায়াবেটিস রোগীদের ঘরের ভেতরে বা বাইরে কোথাও নগ্ন পায়ে হাঁটা উচিত নয়। সবসময় জুতো বা চটি পরে থাকা ভালো, যাতে পায়ে নতুন করে কোনো আঘাত না লাগে।

  • ফোলা বা ফোসকা না খোঁটানো: পায়ে বা ত্বকে কোনো ফোসকা, দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে তা নিজে থেকে খোঁটানো বা ফাটানোর চেষ্টা করা বিপজ্জনক হতে পারে। এর ফলে সহজে না শুকানো ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে।

  • ভুল ওষুধ বা কেমিক্যাল ব্যবহার না করা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ক্রিম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে ক্ষতে ভুলবশতও হাইড্রোজেন পারক্সাইড ব্যবহার করা উচিত নয়।

  • ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা: ক্ষত দ্রুত সারাতে সবার আগে রক্তে শর্করার মাত্রাকে সঠিক ডায়েট ও নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে কড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিয়মিত নিজের পা ও শরীরের ত্বক পরীক্ষা করুন এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *