কফি ডেট মানেই বন্ধু নয়, এবার সারমেয় সঙ্গী! শহরে কেন হু হু করে বাড়ছে ‘পেট ক্যাফে’-র ক্রেজ?

একসময় কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে আড্ডা দেওয়া বা বাইরে পোষ্যকে বসিয়ে রেখে ভেতরে যাওয়ার দিন এখন অতীত। বদলে যাওয়া মেট্রো শহরের লাইফস্টাইলে এখন কফি টেবিলের দখল নিয়েছে পোষ্যরা। টেবিলে কফির কাপের পাশাপাশি হাজির হচ্ছে কুকুরের বিশেষ ট্রিট কিংবা কুকুরের জন্য তৈরি আইসক্রিম। আর এই অভিনব ট্রেন্ডকে ঘিরেই শহর জুড়ে এখন তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘পেট ক্যাফে’ (Pet Cafe) সংস্কৃতি।
বিশেষ করে যেসব মানুষ ব্যস্ত জীবনধারা বা ফ্ল্যাট সংস্কৃতির কারণে বাড়িতে কোনো পোষ্য রাখতে পারেন না, তাঁদের কাছে এই ক্যাফেগুলি হয়ে উঠেছে শান্তির ঠিকানা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারমেয়দের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের আদুরে আচরণে ক্লান্তি দূর করা এবং ছুটির দিনে একান্তে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রথম পছন্দ এখন এই ডগ ক্যাফেগুলি। শুধু কফি বা স্ন্যাক্স নয়, এর পাশাপাশি বরো বা কেক কেটে পোষ্যের জন্মদিন সেলিব্রেশন, গ্রুমিং এমনকি অ্যাডপশন বা দত্তক নেওয়ার বিশেষ ইভেন্টের ব্যবস্থাও থাকছে এই প্রিমিয়াম ক্যাফেগুলিতে।
পরিসংখ্যান বলছে, এই ট্রেন্ড শুধু শখের বশে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বিশাল অর্থনৈতিক বাজারে পরিণত হয়েছে। ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে পোষ্য কুকুরের সংখ্যা ও পরিচর্যার খরচ রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ই-কমার্স ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের তথ্য বলছে, গত এক বছরে পেট-কেয়ার প্রোডাক্ট, খেলনা, শ্যাম্পু থেকে শুরু করে কুকুরের নানা বিলাসবহুল সামগ্রীর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের এই পেটের বাজার কয়েক হাজার কোটি টাকার শিল্পে পরিণত হতে চলেছে।
দিল্লি-এনসিআর, বেঙ্গালুরু কিংবা পুণের মতো বড় শহরগুলিতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জনপ্রিয় পেট ক্যাফে রমরমিয়ে চলছে। যেখানে কফি শপের সংজ্ঞাই বদলে গিয়ে কফি, কমিউনিটি, অ্যাডপশন এবং চমৎকার অভিজ্ঞতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এবং মানসিক চাপ কমাতে শহরের বুকে এই চারপেয়েদের সঙ্গ পাওয়ার এই নতুন ক্রেজ এখন রীতিমতো ট্রেন্ডিং।