“ভোট চুরি করছে মোদি-শাহ!” রাহুল গান্ধীর সুরেই কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে দিল্লি কাঁপানোর হুংকার খাড়গে-মমতার

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও চড়ল বিরোধীদের সুর। লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশ থেকে শুরু করে নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বারবার কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। এ বার সেই ক্ষোভকে পাথেয় করে একেবারে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর অভিযানের ডাক দিল ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম-সহ ১৯টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এক যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিরোধীদের পক্ষ থেকে আগামী দুই মাসব্যাপী একগুচ্ছ কড়া আন্দোলনের কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক হেভিওয়েট বিরোধী নেতা। যদিও এই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল ডিএমকে এবং আপ (AAP)। দুপুর আড়াইটে নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করে খাড়গে স্পষ্ট ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, রাহুল গান্ধী যে সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন, আজ তা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করে তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনকে পুতুলের মতো ব্যবহার করছেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। চুরি করে ভোট জেতাই তাঁদের একমাত্র কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী দিনে কী কী কর্মসূচি নিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট?
-
৬ অক্টোবর: সমস্ত বিরোধী সাংসদেরা মিছিল করে সোজা নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’-এ যাবেন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হবেন।
-
২ থেকে ৮ অক্টোবর: দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় শুরু হবে ‘সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ’ বা গণতন্ত্র বাঁচাও পদযাত্রা।
-
অক্টোবর ও নভেম্বর মাস: এই দুই মাস জুড়ে দেশজুড়ে পাঁচটি বড় জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে জোটের।
-
১ জানুয়ারি: নতুন বছরের শুরুতেই দিল্লিতে একটি বিরাট মেগা কর্মসূচি পালন করবে বিরোধী শিবির।
পাশাপাশি, এসআইআর (SIR) এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ সংক্রান্ত যে সমস্ত মামলাগুলি বর্তমানে ঝুলে রয়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতে আর্জি জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
পদত্যাগের দাবি মমতার: এদিনের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি নিশানা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় লুঠপাট চালানো হয়েছে এবং এখন সমস্ত জালিয়াতি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে মমতা সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তিনি পদত্যাগ না করলে আগামী দিনে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমের মাঝেও জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে যে চরম সংঘাতের আবহ তৈরি হল, তা আগামী দিনে এক বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।