ভোটে জিতেই জার্সি বদল! ১১১ জন সাংসদ-বিধায়কের দলবদলে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে বাংলা, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

নির্বাচনের সময় এক রাজনৈতিক দলের প্রতীকে জিতে জনপ্রতিনিধি হওয়া, আর ফল বেরনোর পরেই সেই দল ছেড়ে অন্য শিবিরে ভিড়ে যাওয়া—ভারতীয় রাজনীতির এই চিরাচরিত ছবি যেন দিন দিন আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস বা এডিআর (ADR)-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দেশজুড়ে দলবদলের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। আর সেই তালিকায় নাগাল্যান্ডের পরেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের নাম।

রিপোর্টে কী তথ্য উঠে এসেছে? এডিআর এবং ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ যৌথভাবে প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশজুড়ে মোট ১১১ জন সাংসদ ও বিধায়ক তাঁদের দল পরিবর্তন করেছেন। এই তালিকায় ২৬ জন লোকসভার সাংসদ, ৭ জন রাজ্যসভার সাংসদ এবং ৭৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। সারা দেশের মোট ৪৮৭৬ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে এই দলবদলের হার প্রায় ২ শতাংশ।

বাংলায় দলবদলের ছবিটা ঠিক কেমন? জাতীয় স্তরের এই পরিসংখ্যানে রীতিমতো চোখ কড়া নাড়ার মতো তথ্য উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে। তালিকার শীর্ষে থাকা নাগাল্যান্ডে দলবদলের সংখ্যা যেখানে ৩২, ঠিক তার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলা। এডিআরের তথ্য অনুযায়ী, একলাফে বাংলার ২০ জন জনপ্রতিনিধি দল পরিবর্তন করেছেন, যা মোট দলবদলকারী সাংসদ-বিধায়কদের প্রায় ১৮ শতাংশ। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলার এই ২০ জনই হলেন লোকসভার সাংসদ, যারা শাসকদল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন।

কোন দল থেকে কতজন গেলেন? তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দল ছাড়ার সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এনডিপিপি (NDPP), যাদের ২৫ জন প্রতিনিধি দলবদল করেছেন। ঠিক তার পরেই রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, যাদের ২০ জন সাংসদ-বিধায়ক দল ছেড়েছেন। এছাড়া কংগ্রেসের ১৯ জন, বিআরএস (BRS)-এর ৯ জন, আপ এবং এনসিপি-র ৭ জন করে এবং শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে দল)-র ৬ জন নেতা দলবদল করেছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি দলবদলকারী নেতাকে নিজেদের দলে জায়গা দিয়েছে এনপিএফ (NPF) ও বিজেপি।

রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক: এই ব্যাপক দলবদলের নেপথ্য কারণ হিসেবে রাজনীতির নীতিহীনতা, অর্থ ও ক্ষমতার লোভ এবং পদ পাওয়ার লালসাকেই প্রধান বলে চিহ্নিত করেছে এডিআর। বিরোধী দলগুলি এই বিষয়ে শাসক শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেছে। কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য ও সিপিএম নেতা রামচন্দ্র ডোম উভয়েই এই ধরনের দলবদলকে গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অস্বাস্থ্যকর বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, অর্থের জোরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *