এবারে পুজোয় কোনও ভিআইপি এন্ট্রি চলবে না! কার্তিক মহারাজ ও রুদ্রনীলদের নতুন ফোরামের হুঙ্কারে শোরগোল

আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের পুজো উদ্যোক্তাদের নিয়ে তৈরি হলো একটি নতুন যৌথ মঞ্চ—‘পশ্চিমবঙ্গ দুর্গা পুজো সমন্বয় সমিতি’। বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে ঢাক বাজিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই সমিতির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কার্তিক মহারাজ এবং প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। ছোট ও আন্তরিক পুজোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি পুজোর ভিআইপি কালচার নিয়ে এক্কেবারে কড়া অবস্থান নিয়েছে এই নতুন ফোরাম।
নতুন সমিতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো শহর থেকে গ্রাম কিংবা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে হওয়া দুর্গাপুজোগুলিকে একটি ছাতার তলায় নিয়ে আসা। ইতিমধ্যেই dpssinfo.com নামের একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যেখান থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ বিভিন্ন পুজোর তথ্য ও লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে পাবেন। ইতিমধ্যেই প্রায় সাত-আটশো পুজো উদ্যোক্তা এই সমিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং সংখ্যাটি হাজারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিআইপি এন্ট্রি ও পাস নিয়ে কড়া বার্তা: পুজোর ভিআইপি এন্ট্রি এবং এন্ট্রি ফি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, পুজোর ভিআইপি টিকিট ও পাসের নাম করে এক শ্রেণির মানুষ কোটি কোটি টাকা পকেটে ভরছেন। নতুন এই সমিতিতে কোনো ধরনের পাস, টিকিট বা এক টাকার আর্থিক লেনদেনের কোনো স্থান থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রুদ্রনীল ঘোষের মতে, “মায়ের কাছে সবাই ভিআইপি। বাড়ির বৃদ্ধ, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা যে পুলিশকর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সামাজিক পরিষেবা দেন, তাঁরাই আসল ভিআইপি।” এছাড়া কার্নিভাল প্রসঙ্গে তোপ দেগে তিনি জানান, পুজোয় সকলের বাজেট সমান না হলেও মায়ের কাছে সবাই এক। সাধারণ মানুষের পুজো দেখার অধিকারে যাতে কোনো বাধা না আসে, সেদিকেই নজর রাখবে এই নতুন সমন্বয় সমিতি।