বর্ষা বিদায়ের পরেও ফের বন্যার চোখ রাঙানি! হড়পা বানে ভাসল ডজনখানেক গ্রাম, চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী

রাজ্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা বিদায় নিলেও বিহারের মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টে নতুন করে বৃষ্টি ও বন্যার ভ্রুকুটি ফের গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশী দেশ নেপালে লাগাতার বৃষ্টির জেরে গঙ্গা নদী আবারও ফুলেফেঁপে উঠেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানী পাটনায়। পাটনার ভদ্র ঘাট এবং মহাবীর ঘাটের বিস্তীর্ণ রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এমনকি ঘাট দুটিতে অবস্থিত বেশ কিছু মন্দিরও জলের তলায় চলে গেছে।
গঙ্গার জলস্তর লাগাতার বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের রাতের ঘুম উড়েছে। পাটনার পাশাপাশি নেপালের ভারী বৃষ্টির প্রভাব মারাত্মকভাবে অনুভূত হচ্ছে সারণ (ছपरा) জেলাতেও। নেপাল থেকে নেমে আসা গণ্ডক নদীর জলস্তর হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মরসুমে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার গণ্ডক নদীর জলস্ফীতির জেরে বন্যার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে সারণ জেলা।
ভাঙল বাঁধ, প্লাবিত ডজনখানেক গ্রাম:
বুধবার জলের অতিরিক্ত চাপে শরণ জেলার মেকার ব্লকের বাঘা কোল ও জলপুর এলাকার একটি বাঁধ হড়পা বানে ভেঙে যায়। এর জেরে নিমেষেই আশপাশের ডজনখানেক গ্রামে হু হু করে বন্যার জল ঢুকে পড়ে। আকস্মিক এই বন্যায় বহু কাঁচা বাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষি জমি জলের তলায় চলে গেছে। ভেসে গেছে গবাদি পশুও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অবিলম্বে ত্রাণের ব্যবস্থা ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে শরণ জেলা প্রশাসন। এর আগে থেকেই বাঁধ সুরক্ষায় তৎপর ছিল প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বৈভব শ্রীবাস্তব এবং সিনিয়র পুলিশ সুপার রোশন কুমার নিয়মিতভাবে বাঁধগুলো পরিদর্শনও করছিলেন। কিন্তু জলের প্রচণ্ড স্রোতের মুখে শেষরক্ষা হয়নি; বাঁধে ফাটল ধরে তা ভেঙে যায়। বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।
বৈশালীতেও চরম সতর্কতা:
এদিকে বাল্মীকিনগর ব্যারেজ থেকে হিল্লোলে জল ছেড়ে দেওয়ায় বৈশালী জেলাতেও গণ্ডক নদীর জল ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৈশালীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বর্ষা সিং স্বয়ং লালগঞ্জ, বালাহা এবং বসন্তের গণ্ডক ঘাটের তিরহুত বাঁধ পরিদর্শনে যান। জলস্তর দ্রুত বাড়ায় ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বৈশালী, লালগঞ্জ এবং হাজিপুর ব্লকের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জেলা প্রশাসক সাধারণ মানুষকে নদী তীর থেকে দূরে থাকতে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। পরিদর্শনের সময় তাঁকে স্থানীয় শিশু ও নারীদের সঙ্গে কথা বলতে এবং তাঁদের সুযোগ-সুবিধার খোঁজ নিতেও দেখা যায়। নদীপারের বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে বাঁধের পাশ দিয়ে একটি পাকা রাস্তা ও সিঁড়ি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সব জেলাতেই প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।