সকালে নতুন জুতো কিনে সর্বস্বান্ত? পায়ে মারাত্মক ব্যথা এড়াতে ভুলেও এই ভুল করবেন না!

নতুন জুতো কিনে বাড়ি ফিরে পায়ে গলানোর পর দেখলেন তা কামড়াচ্ছে বা পায়ে ফোসকা পড়ে গেছে—এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি অনেকেরই রয়েছে। অনেকেই মনে করেন ভুল মাপের জুতো কেনার জন্যই এমনটা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল গোলমালটা মাপে নয়, বরং জুতো কেনার সময়ে। আপনি কোন সময়ে দোকানে গিয়ে জুতো কিনছেন, তার ওপর নির্ভর করে আপনার পায়ের আরাম।
সাধারণত নতুন জুতো কেনার সময় আমরা সকালের দিকে দোকানে চলে যাই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসটি একেবারেই সঠিক নয়। জুতো কেনার আদর্শ সময় হলো বিকেল বা সন্ধ্যাবেলা। এর পেছনে রয়েছে একটি বৈজ্ঞানিক কারণ।
বিকেলে কেন জুতো কেনা উচিত? আমাদের পায়ের আকার সারাদিন একই রকম থাকে না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সারা রাত শুয়ে থাকার কারণে পায়ে কোনো চাপ পড়ে না, ফলে পা সবচেয়ে ছোট ও সরু থাকে। কিন্তু সারাদিন হাঁটাচলা, দাঁড়িয়ে থাকা এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে শরীরের নিচের অংশে রক্ত ও জল জমা হতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফুট সোয়েলিং’ বলা হয়। এর ফলে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে পা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ফুলে যায় এবং পায়ের পাতা লম্বায় ও চওড়ায় কিছুটা বেড়ে যায়।
আপনি যদি সকালের দিকে ছোট পায়ের মাপে জুতো কেনেন, তবে বিকেলের দিকে সেই জুতো পায়ে দিলেই তা টাইট হয়ে যাবে। এর ফলেই পায়ে ব্যথা, ফোসকা পড়া বা নখে চাপ লাগার মতো সমস্যা শুরু হয়। অন্যদিকে, বিকেলে পা যখন সবচেয়ে বড় অবস্থায় থাকে, সেই মাপে জুতো কিনলে তা সকালেও যেমন আরামদায়ক হবে, তেমনই সারাদিন পরেও কোনো অস্বস্তি হবে না।
জুতো কেনার আরও কিছু জরুরি টিপস:
-
দুই পা-ই মেপে দেখুন: আমাদের শরীরের দুটি পায়ের আকার সবসময় সমান হয় না। তাই কেনার সময় দুই পায়েই জুতো পরে ভালো করে হেঁটে দেখে নেওয়া উচিত।
-
মোজা পরে ট্রায়াল দিন: প্রতিদিন যে ধরনের মোজা পরে জুতো পরবেন, দোকানে গিয়ে ট্রায়াল দেওয়ার সময়ও সেই মোজাটিই ব্যবহার করুন।
-
এক আঙুলের ফাঁক রাখুন: জুতো পরার পর জুতোর সামনে বুড়ো আঙুলের সামনে অন্তত হাফ ইঞ্চি বা এক আঙুলের ফাঁক থাকা দরকার, যাতে হাঁটার সময় পা সহজে নড়াচড়া করতে পারে।
-
হেঁটে পরীক্ষা করুন: শুধু দাঁড়িয়ে জুতো পছন্দ না করে, দোকানের ভেতরে অন্তত দুই থেকে তিন মিনিট হেঁটে দেখে নিন কোথাও খোঁচা লাগছে কি না।