বইয়ের পড়াই শেষ কথা নয়! প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনার মান বাড়াতে বিরাট নির্দেশিকা দিল শিক্ষা দফতর!

প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের পড়াশোনার মান আরও উন্নত করতে একগুচ্ছ নতুন ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন। এবার থেকে শুধু সিলেবাস শেষ করা বা বইয়ের পাতা উল্টানোই শিক্ষকদের কাজ হবে না; বরং কচিকাঁচারা আসলেই ঠিকমতো পড়তে, লিখতে এবং অঙ্ক কষতে শিখছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে। পড়াশোনার এই মানোন্নয়নে রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক স্কুলের জন্য এক কড়া ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
ক্লাসরুমে টাঙাতে হবে ‘শেখার লক্ষ্যমাত্রা’র রঙিন পোস্টার
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির প্রতিটি ক্লাসরুমে নির্দিষ্ট কিছু রঙিন পোস্টার টাঙাতে হবে। ওই পোস্টারগুলিতে পরিষ্কার করে লেখা থাকবে যে, সংশ্লিষ্ট ক্লাসের পড়ুয়ারা ঠিক কী কী বিষয় ও দক্ষতা অর্জন করবে। শিক্ষকরা শুধু গতানুগতিক কায়দায় পাঠ্যবই শেষ করিয়ে দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না; প্রতিটি শিশু বর্ণমালা পড়তে, লিখতে এবং সাধারণ গণিত বা অঙ্ক করতে পারছে কি না, তা তাদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
শুধু ক্লাসরুমের চার দেওয়ালের মধ্যে নয়, অভিভাবকদের সচেতন করতে এবং তাঁদের সন্তানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে স্কুলের মূল গেটের কাছে কিংবা নোটিস বোর্ডেও ওই পোস্টার টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি স্কুলের সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও এই পোস্টার শেয়ার করতে হবে। প্রতিদিনের পড়াশোনা নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগোচ্ছে কি না এবং শিশুরা কতটা উন্নতি করছে, তার ওপর কড়া নজর রাখতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, এই পোস্টার ছাপানোর জন্য স্কুলগুলিকে বাড়তি কোনো পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হবে না। শিক্ষা দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, স্কুলের নিজস্ব কম্পোজিট গ্রান্ট বা অনুদানের তহবিল থেকেই এই সমস্ত খরচ মেটানো যাবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করে তার একটি বিশদ রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে হবে। রাজ্যের সমস্ত জেলার শিক্ষা আধিকারিকদের এই মর্মে স্পষ্ট নির্দেশ পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন।
ছাত্রশূন্য ৯৩৩টি স্কুল নিয়ে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন
এদিকে রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও উচ্চপর্যায়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জানিয়েছেন যে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৯৩৩টি প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে একজনও পড়ুয়া ভর্তি হয়নি। রাজ্যের এমন কিছু স্কুল রয়েছে, যেখানে বিগত পাঁচ বছর ধরে কোনো ছাত্রছাত্রীর নামই ওঠেনি, আবার কোনো কোনো স্কুল প্রায় গত কুড়ি বছর ধরে সম্পূর্ণ ছাত্রশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এভাবে বছরের পর বছর ধরে সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীহীন হয়ে পড়ে থাকা স্কুলগুলির জমি, বিশাল ভবন এবং খেলার মাঠের ভবিষ্যৎ ঠিক কী হবে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। অব্যবহৃত ও ছাত্রশূন্য এই স্কুলগুলির বহুমুখী পরিকাঠামো সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সেগুলিকে জনকল্যাণমূলক বা অন্য কোনো উপযোগ প্রকল্পে ব্যবহার করা যায় কি না, এখন সেই বিষয়টিরই চুলচেরা পর্যালোচনা চলছে।