১১ লক্ষ রাখলে গ্যারান্টিযুক্ত ১৫ লক্ষ টাকা রিটার্ন! বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে পোস্ট অফিসের এই স্কিমে উপচে পড়ছে ভিড়!

শেয়ার বাজারে টাকা বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ভালো রিটার্নের সম্ভাবনার পাশাপাশি বাজারের ওঠানামার ঝুঁকিও সবসময় থেকেই যায়। তাই যাঁরা কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে একদম তুলনামূলক নিরাপদ ও স্থির জায়গায় এককালীন সঞ্চয় রেখে ভবিষ্যতের জন্য একটি নিশ্চিত অঙ্ক গড়ে তুলতে চান, তাঁদের কাছে সেরা বিকল্প হতে পারে পোস্ট অফিসের ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা NSC। সরকারি ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির মধ্যে এই স্কিমটি অত্যন্ত পরিচিত ও ভরসাযোগ্য। এই প্রকল্পে একবার টাকা বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তা রেখে দিলেই সুদ-সহ সম্পূর্ণ অর্থ নিরাপদভাবে ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।

বর্তমান সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধির দারুণ সুবিধা
বর্তমানে এই স্কিমে বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ হারে আকর্ষণীয় সুদ দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, এনএসসি (NSC)-র ক্ষেত্রে সুদ সাধারণ সরল হারে নয়, বরং চক্রবৃদ্ধি (Compound Interest) পদ্ধতিতে হিসেব করা হয়। এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদের অঙ্কও মূল টাকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরবর্তী সুদের হিসাবের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক এই কারণেই পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে বিনিয়োগের মোট মূল্য শুরুতে জমা করা টাকার পরিমাণের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যায়।

ধরুন, কেউ যদি এককালীন ১১ লক্ষ টাকা এনএসসি-তে বিনিয়োগ করেন, তবে বর্তমান ৬.৭ শতাংশ সুদের হার অনুযায়ী হিসাব করলে পাঁচ বছর পর সেই জমানো টাকার পরিমাণ প্রায় ১৫,২১,৩০০ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ, আপনার মূল বিনিয়োগের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৪,২১,৩০০ টাকা নিট সুদ হিসেবে যুক্ত হতে পারে। তবে মনে রাখা ভালো যে, এই হিসাবটি বর্তমান সুদের হারের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। দেশের ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার সরকার পরিস্থিতির সাপেক্ষে পরিবর্তন করতে পারে, তাই ভবিষ্যতে প্রকৃত ম্যাচিওরিটি অঙ্ক কিছুটা আলাদা হতেও পারে।

নামমাত্র অংঙ্কে শুরু ও বিনিয়োগের নিয়ম
এই স্কিম শুরু করার জন্য বিশাল অঙ্কের টাকার কোনো প্রয়োজন নেই। মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়েই এখানে বিনিয়োগের যাত্রা শুরু করা সম্ভব। এরপর ১,০০০ টাকার গুণিতক হিসেবে ইচ্ছামতো টাকা জমা করা যায়। এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি, ফলে বিনিয়োগকারী তাঁর আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী জমানোর পরিমাণ বাড়াতে পারেন।

তবে যেকোনো একটি স্কিমে নিজের সারা জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ঢেলে দেওয়ার আগে নিজস্ব আর্থিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

লক-ইন পিরিয়ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এই প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো এর মেয়াদ। এনএসসি-র ক্ষেত্রে লক-ইন বা নির্ধারিত মেয়াদ হলো পাঁচ বছর। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। যদিও কিছু বিশেষ ও জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আগাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সুযোগ থাকতে পারে। তাই যে অর্থ আপনার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হাতখরচ বা জরুরি প্রয়োজনে লাগতে পারে, তা সম্পূর্ণভাবে এই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে আটকে রাখার আগে ভালোভাবে পরিকল্পনা করে নেওয়া দরকার।

বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করার সময় এই বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি যে, আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত সেই টাকা ব্যবহার না করার মতো আর্থিক সক্ষমতা আপনার রয়েছে কি না। পাশাপাশি, যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য আলাদা করে কিছু সঞ্চয় হাতে রাখা হয়েছে কি না, তাও যাচাই করে নেওয়া উচিত। অন্ধের মতো শুধু সুদের হার দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নিয়ে, নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে প্রকল্পটির লক-ইন পিরিয়ড মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

শিশুদের নামেও বিনিয়োগের সুযোগ
এনএসসি (NSC) কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের শিশুদের নামেও এই সার্টিফিকেট কেনা যায়। ১০ বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে তার অভিভাবক বা বাবা-মা এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারেন। আবার যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজের একক নামেও এতে বিনিয়োগ করতে পারেন। ফলে সন্তানের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা কিংবা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেও এই ধরনের নিরাপদ সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প আজকের দিনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *