পোর্টাল বিকল তো কী হয়েছে! মিড ডে মিল বন্ধ করলেই কড়া ব্যবস্থা, রাজ্য সরকারের বিরাট নির্দেশ!

স্কুলে মিড ডে মিল বা ‘পিএম পোষণ’ প্রকল্পের রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ার একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার। বিভিন্ন স্কুল থেকে অভিযোগ আসছিল যে, বরাদ্দ টাকা সময়মতো না পৌঁছানোর কারণে রান্না বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা দফতর অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে যে, কোনো অবস্থাতেই মিড ডে মিলের রান্না বন্ধ রাখা যাবে না। পোর্টালে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ার কারণেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

পোর্টালের সমস্যা থাকলেও বন্ধ হবে না মিড ডে মিল
গত মঙ্গলবার স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে জারি করা বিশেষ নির্দেশিকায় পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পোর্টালে যান্ত্রিক ত্রুটি বা জটিলতা যাই থাকুক না কেন, ‘পিএম পোষণ’ প্রকল্পের রান্না নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিড ডে মিলের পোর্টালে যে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা সমাধানের জন্য অর্থ দফতর ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে এবং খুব দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে।

শিক্ষা দফতরের হাতে তহবিলের কোনো রকম ঘাটতি নেই বলেও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। পোর্টালের সমস্যা পুরোপুরি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের কোনো স্কুলেই যাতে এক দিনও মিড ডে মিল বন্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক, শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক, জিটিএ (GTA)-র শিক্ষা বিভাগের কার্যনির্বাহী অধিকর্তা এবং কলকাতার প্রাথমিক স্কুল পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

৩ দিন রান্না বন্ধ থাকার পরই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন
সম্প্রতি গড়িয়ার বোড়াল সমিতি বিদ্যাপীঠে টানা তিন দিন মিড ডে মিলের রান্না বন্ধ থাকার একটি গুরুতর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, প্রায় তিন মাস ধরে স্কুল অ্যাকাউন্টে কোনো ফান্ড বা বরাদ্দ টাকা আসছিল না। বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে এতদিন মিড ডে মিলের রান্না সচল রেখেছিলেন তাঁরা।

কিন্তু ধার এবং দেনার পরিমাণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে শেষ পর্যন্ত আর কোনোভাবেই রান্না চালানো সম্ভব হয়নি। যার জেরে স্কুলটিতে মিড ডে মিলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই ধরনের ঘটনা যাতে রাজ্যের অন্য কোনো স্কুলেও পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই দিকটি মাথায় রেখেই রাজ্য সরকারের এই নতুন ও সময়োপযোগী নির্দেশিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *