চাঁদাবাজির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উড়িয়ে সোজা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন তুকারাম মুন্ধে! বললেন, ‘প্রমাণ দিন, তারপর দেখব’

মহারাষ্ট্র খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (FDA)-এর কমিশনার তথা কড়া আইএএস অফিসার তুকারাম মুন্ধে ফের একবার রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। শিবসেনা (ঠাকরে গোষ্ঠী) সাংসদ সঞ্জয় রাউত সম্প্রতি এফডিএ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ফাস্ট ফুড ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। সঞ্জয় রাউতের সেই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রকাশ্যে কড়া জবাব দিয়েছেন তুকারাম মুন্ধে। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন।
ঠিক কী অভিযোগ করেছিলেন সঞ্জয় রাউত? সঞ্জয় রাউত একটি চিঠি প্রকাশ করে দাবি করেছিলেন যে, এফডিএ আধিকারিকরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখিয়ে ব্যাপক হারে অর্থ আদায় করছেন। তাঁর দাবি ছিল, তুকারাম মুন্ধে দায়িত্ব নেওয়ার আগে যেখানে প্রতি নোটিসে ১০, বর্তমানে তা বেড়ে ৭৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
কী বললেন এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ধে? সংবাদমাধ্যমের সামনে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তুকারাম মুন্ধে বলেন, “আমি গতকাল সঞ্জয় রাউতের সংবাদ সম্মেলন দেখেছি। তিনি আমার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি, বরং আমাকে অভিনন্দনই জানিয়েছেন। তবে তিনি যে অভিযোগগুলো এনেছেন, তার সমর্থনে আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ এসে পৌঁছায়নি।”
তিনি আরও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, “যদি কোনো কর্মকর্তা ১০,০০০ বা ১২,০০০ টাকা দাবি করেন, তবে তা প্রমাণসহ আমাকে জানাতে হবে। অডিও বা ভিডিওর মতো কোনো অকাট্য প্রমাণ না থাকলে আমি কার বিরুদ্ধে বা কীসের ভিত্তিতে তদন্ত করব? তথ্য না পেলে তদন্ত চালানো অসম্ভব।”
গুটখা ও অবৈধ তেল বাজেয়াপ্তের বড় অভিযান শুধু অভিযোগের জবাব হওয়াই নয়, এর পাশাপাশি এফডিএ-র কঠোর পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মুন্ধে। তিনি জানান, মহারাষ্ট্রে গুটখা তৈরির কোনো প্রমাণ না থাকলেও অন্য রাজ্য থেকে তা পাচার করা হচ্ছে। সম্প্রতি থেন ও পালঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১.২৬ কোটি টাকার গুটখা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং চালককে গ্রেপ্তার করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া বুলধানা জেলার খামগাঁও থেকে লাইসেন্সবিহীন প্রায় ৩.৫১ কোটি টাকার তেলের মজুতও জব্দ করেছে এফডিএ। নিয়ম ভেঙে ব্যবসা করায় অভিযুক্তদের ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।