যে ওষুধের দাম ২৭০০, সেটাই বিক্রি হয় ২৭ হাজার টাকায়! সুপ্রিম কোর্টের তোপে ফাঁস হল একজনাংশের কারসাজি

ক্যানসারের মতো জীবনদায়ী রোগের চিকিৎসার খরচ আকাশছোঁয়া। কিন্তু ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি থেকে শুরু করে বেসরকারি হাসপাতালগুলির অতিরিক্ত মুনাফা এবং লাভ করার প্রবণতা কীভাবে রোগীদের সর্বস্বান্ত করছে, তা নিয়ে সম্প্রতি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, যে ওষুধের উৎপাদন বা জোগান খরচ মাত্র ২,৭০০ টাকা, তার এমআরপি (MRP) বাড়িয়ে দিব্যি ২৭,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এই ১০ গুণ দামের ফারাক কেন থাকবে, তা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে কড়া জবাব তলব করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
১০ গুণ বেশি দাম নিয়ে প্রশ্ন আদালতের মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। শুনানির সময় বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, খুচরো বিক্রেতাদের কাছে যে ওষুধ ২,৭০০ টাকায় পৌঁছায়, তার গায়ে ২৭,০০০ টাকা দাম বসিয়ে দেওয়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে একপ্রকারের প্রতারণা। ড্রাগস (প্রাইসেস কন্ট্রোল) অর্ডার বা DPCO, 2013-এর নিয়মের আওতায় চলা এই বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতার কাছে জানতে চায়—কেন সমস্ত ওষুধের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট এবং সমান ১৬ শতাংশ লাভ মার্জিন (Profit Margin) বেঁধে দেওয়া হবে না?
হাসপাতালের নিজস্ব কেমিক্রেট ও রোগীদের বাধ্যবাধকতা শুধু ওষুধের দামই নয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলির অন্দরের ব্যবসাপদ্ধতি নিয়েও মারাত্মক প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। অনেক হাসপাতালেই রোগীদের বাধ্য করা হয় তাদের নিজেদের নির্দিষ্ট কেমিস্ট শপ বা ফার্মেসি থেকেই চড়া দামে ওষুধ কিনতে। এর ফলে খোলা বাজারের প্রতিযোগিতায় রোগীরা বঞ্চিত হন এবং নিজের পছন্দমতো সস্তায় ওষুধ কেনার সুযোগটুকুও হারিয়ে ফেলেন।
সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে স্বীকার করেছেন যে, ওষুধের দামের এই অস্বাভাবিক ফারাক বা স্প্রেডের সুবিধা সবসময় যে একা ফার্মা কোম্পানিগুলো পায়, তা নয়। অনেক সময় প্রাইভেট হাসপাতালগুলো এর থেকে মোটা অংশ বা মার্জিন তুলে নেয়। তবে দিনশেষে এর চরম অর্থনৈতিক বোঝা গিয়ে পড়ে সাধারণ রোগী ও তাঁদের পরিবারগুলির কাঁধেই।
কেন্দ্রের পর্যালোচনার নির্দেশ ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ওষুধ কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেভাবে নিঃস্ব হচ্ছেন, তাতে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, দ্রুত এই মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া, হাসপাতালগুলির নিজস্ব কেমিস্ট নীতি এবং সমস্ত ওষুধের ক্ষেত্রে সমান মার্জিন রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবার নামে চলা এই লাগামহীন মুনাফাখোরির রাশ টানতে এবার বড় কোনো নীতিগত বদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।