অযোধ্যা ও কাশীর পর এবার লক্ষ্য মথুরা! ২০২৭-এর আগে উত্তরপ্রদেশে কোন বড় ছক কষছে বিজেপি?

দিল্লির ক্ষমতার চাবিকাঠি যেমন লখনউয়ের ওপর দিয়ে যায়, ঠিক তেমনই উত্তরপ্রদেশের মসনদে বসতে হলে যে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশকে জয় করা বাধ্যতামূলক, তা ভালোভাবেই জানে রাজনৈতিক মহল। আগামী ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই পুরো রণকৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মথুরা এবং পশ্চিম ইউপির মেগা ভোট ব্যাঙ্ক।
পশ্চিম ইউপির সমীকরণ ও বিজেপির অংক উত্তরপ্রদেশের মোট ৪০৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কেবল পশ্চিম অংশেই রয়েছে ১৩৬টি আসন, যা সমগ্র বিধানসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চল থেকেই ১০৯টি আসন জিতে চমক দেখিয়েছিল বিজেপি। যার জেরে ১৪ বছর পর রাজ্যে ফেরে পদ্মশিবির। তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে কৃষক আন্দোলন, স্থানীয় নানা সমীকরণ ও বিরোধী জোটের ধাক্কায় সেই আসন সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯৩টিতে। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের ব্যবধানে ১৬টি আসন হাতছাড়া হয় দলের।
যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় এবং দল তার ৭০ শতাংশ সাফল্যের হার বজায় রাখে, তবুও ২০২৭-এর লড়াইয়ে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ শীর্ষ নেতৃত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন মিরাট ও সাহারানপুর সফর করেছেন। আর এবার আগামী ৩ ও ৪ অক্টোবর মথুরায় বসতে চলেছে বিজেপি ও আরএসএসের এক মেগা চিন্তন শিবির।
মথুরা ও নতুন রাজনৈতিক আখ্যান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৭ সালের ভোটের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল কাশী, ২০২২ সালে তা সরে আসে অযোধ্যায়, আর এখন ২০২৭ সালের লড়াইয়ের আগে পুরোপুরি ফোকাস করা হচ্ছে মথুরার ওপর। রাম মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এটিই প্রথম বড় বিধানসভা নির্বাচন। ফলে অযোধ্যার পাশাপাশি মথুরাকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক আখ্যান বা ন্যারেটিভ তৈরি করতে চাইছে দল।
বিজেপির অন্দরের খবর, এই চিন্তন শিবিরে শুধু সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিই নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা, হিন্দুত্ব এবং ব্রজভূমির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে হাতিয়ার করে পশ্চিম ইউপির ১১০টিরও বেশি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা ধরে রাখতে শেষ পর্যন্ত মথুরার এই মেগা বৈঠক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।