দিল্লিতে বড় স্বস্তি! মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছান এইমস, চালু হলো নতুন উড়ালপুল ও এক্সপ্রেসওয়ে

দিল্লি-এনসিআরের যাতায়াত ব্যবস্থায় এল এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। সাধারণ মানুষের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হলো বহুল প্রতীক্ষিত ময়ূর বিহার থেকে সরাই কালে খান সংযোগকারী বারাপুল্লা ফেজ-৩ উড়ালপুল (Barapullah Phase-III)। এর পাশাপাশি মাত্র একদিন আগেই চালু হয়েছে প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ডিএনডি-জৈতপুর সংযোগকারী দিল্লি-মুম্বাই লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ে। এই দুটি নতুন রুট চালু হওয়ায় একদিকে যেমন লাখ লাখ যাত্রীর সময় বাঁচবে, তেমনই অন্যদিকে শহরের একাধিক ব্যস্ত পয়েন্টে ট্রাফিক জ্যামের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

কোন কোন এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন? সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন পূর্ব দিল্লি এবং নয়ডার বাসিন্দারা।

  • আগে ময়ূর বিহার বা পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এইমস, ধৌলা কুয়ান কিংবা দক্ষিণ দিল্লিতে যাওয়ার জন্য রিং রোড বা আইটিও-র প্রবল ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে পড়তে হতো।

  • এখন নতুন এই ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিন-লেনের সিগন্যাল-মুক্ত করিডোর দিয়ে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি সরাই কালে খান ও সেখান থেকে এইমস পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

  • সরকারি অনুমান অনুযায়ী, পিক আওয়ারে নয়ডা বা পূর্ব দিল্লি থেকে এইমস পর্যন্ত যাতায়াতের সময় প্রায় ৩৫-৪০ মিনিট থেকে কমে মাত্র ১৫ মিনিটে নেমে আসতে পারে।

  • এছাড়া ডিএনডি-জৈতপুর লিঙ্ক রোড চালুর ফলে নয়ডা, ফরি এবং জৈতপুরের যাত্রীরাও কািলন্দি কুঞ্জের চেনা ট্রাফিক এড়িয়ে সরাসরি দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে ধরে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

কোথায় বাড়তে পারে যানজটের চাপ? নতুন রাস্তাগুলো যাতায়াত সহজ করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু পয়েন্টে নতুন করে গাড়ির চাপ বাড়তে পারে:

  • সরাই কালে খান জংশন: বারাপুল্লা এবং দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের ট্রাফিক একসঙ্গে এই বড় জংশনে এসে মিলিত হওয়ায় এখানে অফিস টাইমে গাড়ির চাপ অনেকটাই বাড়তে পারে।

  • বারাপুল্লার লুপ ও রিং রোড: বিভিন্ন দিক থেকে আসা গাড়িগুলোর মার্জিং বা সংযোগস্থল যদি মসৃণ না হয়, তবে লুপগুলোর মুখে সাময়িক যানজট তৈরি হতে পারে।

  • কালিন্দী কুঞ্জ: ফরিডাগামী কিছু ট্রাফিক বিকল্প রুট পেলেও স্থানীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির যানবাহনের কারণে কািলন্দি কুঞ্জে পুরোপুরি চাপ কমবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

কোন কোন শহরে যাতায়াত সহজ হবে? নতুন এই সংযোগের ফলে দিল্লি সরাসরি দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল। এর ফলে ফরিদুবাদের পাশাপাশি সোনাডা, রাজস্থানের জয়পুর, সওয়াই মাধোপুর, কোটা এবং পরবর্তীতে মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও মুম্বাই পর্যন্ত যাতায়াত অনেক বেশি দ্রুত ও সুগম হবে। তবে ট্রাফিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই রুটগুলো সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য চালকদের অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে এবং ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সঠিক না হলে প্রথমদিকে কিছু এলাকায় সাময়িক ভোগান্তিও হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *