তাক লাগালেন প্রাক্তন আইটি কর্মী! কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে বেঙ্গালুরুর রাস্তায় অটো চালাচ্ছেন এই মহিলা

এসি অফিসের আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে কেউ কখনও রাস্তায় অটো চালাতে পারেন? উত্তরটা হয়তো অনেকেই ‘না’ দেবেন। কিন্তু বর্তমান দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতার পাতা উল্টালে এমন অনেক অনুপ্রেরণামূলক গল্প সামনে আসে, যা মানুষের চিন্তাভাবনা বদলে দেয়। সম্প্রতি বেঙ্গালুরু থেকে তেমনই এক অদম্য নারীর গল্প ভাইরাল হয়েছে, যা শুনলে আপনিও তাঁর সাহসিকতা ও জেদকে কুর্নিশ জানাতে বাধ্য হবেন।
ইনস্টাগ্রামে ডিজিটাল ক্রিয়েটার তনভী শেঠি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যা ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছে। ভিডিওটিতে এক মহিলা অটোচালককে দেখা যাচ্ছে, যাঁর জীবনযুদ্ধের গল্প হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।
কেন ছেড়েছিলেন আইটি বা কর্পোরেটের চাকরি?
জানা গেছে, ওই মহিলার বাবা সম্প্রতি মারা গেছেন এবং বাড়িতে তাঁর মা সম্পূর্ণ একা থাকতেন। আইটি সেক্টরে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে হয় এবং প্রায়শই নাইট শিফট করতে হয়। এই অনিয়মিত রুটিনের কারণে তিনি নিজের বৃদ্ধা মাকে সময় দিতে পারতেন না। মায়ের একাকীত্ব দূর করার জন্য তিনি এক মুহূর্তের জন্যও ভাবেননি যে ‘সমাজ কী বলবে’। কর্পোরেটের লাখ টাকার চাকরি পায়ে ঠেলে তিনি বেছে নেন বেঙ্গালুরুর ব্যস্ত রাস্তায় অটো চালানোর পেশা।
‘এত ভালো ইংরেজি বলেন, তবুও অটো?’
যাত্রীরা যখন তাঁর অটোতে ওঠেন এবং তাঁর মুখে সাবলীল ও চমৎকার ইংরেজি শোনেন, তখন তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়ে যান। অনেকেই অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, “আপনি এত ভালো ইংরেজি বলতে পারেন, তবুও কেন অটো চালান?” কিন্তু ওই নারী এই সমস্ত কৌতূহলী বা কটূক্তির বিন্দুমাত্র পরোয়া করেন না। তাঁর স্পষ্ট বিশ্বাস, দুনিয়ায় কোনো কাজই ছোট নয়। সবচেয়ে বড় কথা, এই পেশায় তিনি কেবল মানসিক শান্তিই পাচ্ছেন না, বরং অনেক সময় আইটি চাকরির চেয়েও বেশি আয় করে নিজের পায়ে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছেন।
পিতৃতন্ত্র ও সমাজের চিন্তাধারাকে বুড়ো আঙুল
আজও আমাদের দেশের সমাজে অটো বা ট্যাক্সি চালানোর মতো পেশাগুলোকে মূলত পুরুষদের কাজের জায়গা বলেই মনে করা হয়। কিন্তু এই মহিলা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, মনের জোর আর দৃঢ় সদিচ্ছা থাকলে নারীদের জন্য পৃথিবীতে কোনো কাজই অসম্ভব নয়। সমাজের ভ্রুকুচকে পেছনে ফেলে তিনি নিজের শর্তে জীবন বাঁচার পথ বেছে নিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনরা ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। কেউ একে মায়ের প্রতি এক মেয়ের নিখাদ ভালোবাসার নিদর্শন বলছেন, তো কেউ আবার ওই মহিলার আপসহীন লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী কমেন্ট বক্সে লিখেছেন, “এই গল্প কেবল একটা সংগ্রামের নয়, প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জয়ের জেদ।”